Ticker

6/recent/ticker-posts

ঈমান কাকে বলে

ঈমান কাকে বলে

 ঈমান কাকে বলে 

পোস্টের সূচি
১। আল্লাহর প্রতি ঈমান।
২। মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি ঈমান।
৩। কুরআনের প্রতি ঈমান। 
৪। রিজিক, জীবন-মৃত্যু সম্পর্কে ঈমান।
৫। মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা। 
৬। পরকাল সম্পৃক্ত বিষয়াবলির প্রতি ঈমান। 

ঈমান কাকে বলে

ঈমান হলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে যা এসেছে বলে জানা গেছে তার সবগুলোই অন্তরে বিশ্বাস করা এবং মুখে সত্যায়ন করা । ঈমান আনার সাথে আমরা এভাবে স্বীকারোক্তির হুকুম দেই যে, একজন মানুষ বলবে, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল, যাকে সমস্ত মানব ও জ্বীন জাতির কল্যাণের জন্য সত্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে। " বিশ্বাস ও উচ্চারণের এই মাপকাঠিটি জাহান্নাম থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য মুমিনের জীবনে একবার উচ্চারণ যথেষ্ট হবে। আর  উচ্চারণের পুনরাবৃত্তি করা এবং সর্বদা উচ্চারণ করা মর্যাদা বৃদ্ধির আশায় হবে। উক্ত ঈমান আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানী কিতাব সমূহ, রাসূলগণ ,পরকাল ও ভাল - মন্দ তাকদিরের প্রতি ঈমানকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।

আল্লাহ 'আলার প্রতি ঈমান

নিঃসন্দেহে আমরা অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করি ও মুখে স্বীকার করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা এক, তার কোনো শরীক নাই । কোন কিছুই তার মত নয়, কোন কিছুই তাকে অক্ষম করতে পারে না । তিনি ব্যতিত কোন ইলাহ নেই । তিনি সূচনাহীন অনন্ত, সামাপ্তিহীন স্থায়ী। তিনি শেষ হবেন না, ধ্বংসও হবেন না। তিনি যা চান তাই হবে। কল্পনাশক্তি তাঁর পর্যন্ত পৌঁছতেও পারে না/ পারবে না। বুঝশক্তি তাঁকে অনুধাবনও করতে পারে না/ পারবে না।  সৃষ্টি তাঁর সদৃশ হয় না/ হবে না। তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। তিনি নিয়ন্ত্রণকারী, কখনো ঘুমাবেন না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, অক্ষর- আওয়াজ মুক্ত সত্তাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অনাদি কালামের (কথার) প্রবক্তা। দিকসমূহ তাকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তিনি সন্তান জন্ম দেননি, তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি অনাদি গুনাবলীর অধিকারী। তাঁর জন্যই সুন্দর সুন্দর নাম সমূহ। সাত আসমান - সাত জমিন ও উভয়ের মাঝে যা আছে সব কিছু তাঁর তাসবিহ পাঠ করে। সব কিছুই তার প্রশংসা সহ তাসবিহ পাঠ করে। ( আল ইসরাহ: ৪৪) 
আমরা আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করি তাঁর  নিয়ামতরাজীর উপর । কেননা তিনি চাহিদাহীন সৃষ্টিকর্তা, কষ্ট বিহীন রিজিকদাতা, ভয়হীন মৃত্যুদাতা , জটিলতা ছাড়া পুনরুত্থানকারী। তিনি সৃষ্টি জীবের পূর্ব থেকেই  গুনাবলীসহ অনন্ত, অনাদি আছেন, এমন কোনো গুণ বৃদ্ধি পাইনি যা সৃষ্টি জীবের সৃষ্টির আগে ছিল না। সূতরাং তিনি রব ( সবকিছুর পরিচালক ও প্রতিপালক), মারবুব ( কারো পরিচালিত ও পালিত) নন। তিনি খালেক (সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা), মখলুক (কারো সৃষ্ট) নন। জীবন দান ও মৃত্যু দানের পূর্বেই তিনি মুহয়ী (জীবনদানকারী), মুমীত (মৃত্যু দানকারী ) । তা একারণে যে, তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। সব কিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। সকল বিষয় তার জন্য সহজ।  তিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কাছে কোন কিছুই গোপন নয়।  মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর সময় ও রিজিক তিনি নির্ধারণ করেছেন। মানুষ যা কিছু করে  তিনি তা জানেন জগত সৃষ্টির আগে। তিনি তাঁর আনুগত্যের আদেশ করেছেন এবং নাফরমানি থেকে নিষেধ করেছেন। সব কিছুই তাঁর ইচ্ছা ও সক্ষমতায় চলে । যাকে চান তাকে অনুগ্রহ পূর্বক (আগুন /পথভ্রষ্টতা থেকে ) নিরাপদে রাখেন এবং রক্ষা করেন। যাকে চান তাকে ন্যায় - ইনসাফ পূর্বক পথহারা করেন এবং লাঞ্ছিত করেন। তাঁর ফায়সালার কোন প্রত্যাখানকারী নেই। তাঁর হুকুমের কোনো খন্ডনকারীও নেই। ভালো ও মন্দ উভয়টাই বান্দার জন্য (আল্লাহ তা'আলর পক্ষ থেকে) নির্ধারিত। 
বান্দার কর্মসমূহ (أفعال العباد ) আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট, বান্দার অর্জন। বান্দা যতটুকু (বিধি-বিধান ) ধারণ করার সামর্থ্য রাখে তিনি ততটুকুই বাধ্য করেন। যতটুকু তিনি বাধ্য করেন ততটুকুই বান্দা ধারণ করার সামর্থ রাখে। এটাই لا حول ولا قوة الا بالله এর ব্যাখ্যা।
(এর ব্যাখ্যায় ) আমরা বলব, গুনাহ থেকে বাঁচার কারো কোনো উপায় নেই, কোন সামর্থ্য নেই, কোন নড়াচড়া নেই একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সাহায্য ছাড়া। আনুগত্য করা এবং এর উপর অটল/ অবিচল থাকার শক্তিও কারোর নেই একমাত্র আল্লাহ তা'আলার তাওফীক ছাড়া। সব কিছু তাঁর ইচ্ছায়, তাঁর জ্ঞানে, তাঁর নির্ধারণে ও  তাঁর ফায়সালায় চলে। তাই তাঁর ইচ্ছা সকল ইচ্ছাকে পরাভূত করে। তাঁর ফায়সালা সকল ফন্দিকে পারাস্ত করে। তিনি যা চান তাই করেন।  তিনি কখনোই জালেম নন। সকল অনিষ্ট ও ধ্বংস থেকে তিনি পবিত্র। সকল দোষ- ত্রুটি থেকে তিনি মুক্ত।  "তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হবে না কিন্তু তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"  (আল আম্বিয়া - ২৩)
সব কিছু তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না / পারবে না। কোন কিছুই চোখের পলক পরিমাণও তার থেকে অমুখাপেক্ষী নয়। যে আল্লাহ তা'আলা থেকে চোখের পলক পরিমাণও অমুখাপেক্ষীতার দাবি করল সে কুফরি করল ( কাফের হয়ে গেল) ।
(ইবাদতের) সামর্থ্য (যা দ্বারা কর্ম আবশ্যক হয় ) তাওফিকের মাধ্যমে হয় যার দ্বারা মাখলুক গুণান্বিত হওয়া অসম্ভব। সামর্থ্য কর্মের সাথে যুক্ত। সুস্থতা, শক্তি, ক্ষমতা, অঙ্গ-প্রতঙ্গ দোষ-ত্রুটি মুক্ত হওয়ার দিক দিয়ে সক্ষমতা কর্মের আগে (অর্জন হতে হয়) । আমরা (উপরে উল্লেখিত) সবগুলোর উপরই ঈমান আনলাম।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান  

আমরা ঈমান এ ব্যাপারে আনলাম যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা'আলার নির্বাচিত বান্দা , মনোনীত নবী, সন্তুষ্টভাজন রাসূল। তিনি সর্বশেষ নবী, মুত্তাকীদের ইমাম, রাসূলগণের সর্দার, বিশ্ব প্রতিপালকের প্রিয় বন্ধু ‌। তাঁর নুবুওয়াতের পর নবী হওয়ার প্রত্যেক দাবি অন্যায় এবং কুফর। তিনি সমস্ত জ্বীন জাতি ও মানব জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছেন সত্য ও হেদায়েত নিয়ে।আল্লাহ তা'আলা তাঁর রেসালাত কে প্রমাণ করার জন্য বহু মু'জেযা প্রকাশ করেছেন, যেমন- চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া, গাছ হেঁটে আসা, পাথর সালাম করা, অদৃশ্য বিষয়াবলী সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া ইত্যাদি।

কুরআনের প্রতি ঈমান

আমরা বিশ্বাস করি যে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম(কথা) , ধরণ ছাড়া বলেছেন। তিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁর নবীর উপর ওহী রূপে। আর মুমিনগণ তা সত্যায়ন করেছেন এবং বিশ্বাস রাখেন যে,  কুরআন বাস্তবেই আল্লাহর কালাম, মাখলুক ( সৃষ্ট ) নয় । মানুষের কথা তাঁর কথার সদৃশ হয় না। যে আল্লাহ তা'আলাকে মানুষের গুণাবলীর কোনো গুণ দ্বারা গুণান্বিত করল সে কুফরি করল।

রিজিক, জীবন - মৃত্যু সম্পর্কে ঈমান

আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের কর্মকেও। তিনি তাদের রিজিক এবং মৃত্যুর সময়  নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেকেই তাঁর (নির্ধারিত) রিজিক পূর্ণ করবে; হালাল কিংবা হারাম হোক। এটা তো চিন্তাই করা যায় না যে, একজন মানুষ তার (নির্ধারিত) রিজিক ভক্ষণ করবে না কিংবা অন্য কেউ তার রিজিক ভক্ষণ করবে। প্রত্যেকেই তার (নির্ধারিত) সময় পূর্ণ করবে । নিহত ব্যক্ত তার নির্ধারিত সময়ে মৃত্যু বরণ করবে।

মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা

যখন মানুষ তার নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে তখন আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাকে তাদের রুহু কবজের আদেশ করেন।  তাদেরকে দাফন করা হলে আল্লাহ তা'আলা তাদের মধ্যে জীবন ফিরিয়ে দেন। ফলে তারা প্রশ্ন বুঝতে পারে , উত্তর দিতে সক্ষম হয়। তারপর মুনকার- নাকীর দুই জন ফেরেশতা তাদের কাছে আসেন। মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে বলেন, তুমি (দুনিয়াতে)এই ব্যক্তির ব্যাপারে  কি বলতে? তখন মুমিন বলবে, "তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল।" তাঁরা বলবে, আমরা জানতাম আপনি এটা বলবেন। তারপর তার কবর সত্তর বাই সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে । তাঁর কবর আলোকিত করা হবে। তাঁকে বলা হবে, আপনি ঘুমান। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে গিয়ে তাদেরকে আমার সংবাদ জানাতে চাই। ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আপনি ঘুমান নবদুলহার (বাসর রাতের) ঘুমের মত যাকে তাঁর পরিবারের অধিক প্রিয় মানুষটিই (স্ত্রী)জাগ্রত করে। তারপর সে ঘুমে থাকবে , অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাকে ঐ শয়ন থেকে পুনরুত্থান করবেন। আর মুনাফিক বলবে , আমি মানুষকে শুনেছি এরকম বলতে , তাই আমি বলেছি। এ ছাড়া আর কিছুই জানি না।  ফেরেশতাদ্বয় বলবে , আমরা জানি তুমি এমনটা বলবে । অতঃপর জমিনকে বলা হবে , তুমি তার উপর মিলে যাও। তখন জমিন মিলে যাবে, তার পাঁজরের হাড়গুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে , এক অঙ্গ আরেক অঙ্গের মধ্যে ঢুকে যাবে। এভাবে শাস্তি অব্যাহত থাকবে অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাকে ঐ শয়ন থেকে পুনরুত্থান করবেন।
সুওয়াল প্রত্যেক ছোট কিংবা বড় মৃত ব্যক্তির জন্য হবে। তাকে সুওয়াল করা হবে যখন সে মানুষ থেকে অদৃশ্য হয়ে যায, যদিও হিংস্র প্রাণীর পেটে থাকে কিংবা সমুদ্রে ডুবে যায়। বিশুদ্ধ মত হলো, নবীদেরকে কবরে সুওয়াল করা হবে না। আত্মা শরীরে ফিরিয়ে দেওয়ার পর সুওয়াল করা হবে, যেন রব, দ্বীন, নবী সম্পর্কে মুনকার - নাকীরের সুওয়ালের  জওয়াব দিতে পারে। 
জওয়াবের পর মুমিনকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার স্থান দেখ , আল্লাহ তা'আলা তোমাকে জান্নাতের স্থান বদল করে  দিয়েছেন।  অতঃপর মুমিন উভয়টা দেখবে। কাফের ও মুনাফিক "আমি কিছুই জানি না (لا أدري )"  বলার পর তাদের বলা হবে, তুমি আকল খাটিয়ে জানতেও চাওনি এবং কাউকে অনুসরণও করনি(لا دريت ولا تليت)।" লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে এমনভাবে আঘাত করা হবে ফলে, সে এমন চিৎকার দিবে যা মানুষ ও জ্বীন জাতি ব্যতিত সকলেই শুনতে পারবে।

পরকাল সম্পৃক্ত বিষয়াবলির প্রতি ঈমান

কবরের আযাব কাফির এবং কিছু নাফরমান মুমিনের জন্য সত্য। জান্নাতের নেয়ামত আল্লাহ তা'আলা যার জন্য চান তার জন্য সত্য। জীবিতদের দোয়া ও দান-খয়রাতে মৃত মুমিনদের জন্য উপকারী। কিয়ামতের দিন দেহগুলো একত্রকরণ এবং সেগুলোকে জীবন দান সত্য। মুমিনের আমলনামা তার ডান হাতে দান করা হবে। কাফিরের আমলনামা  তার বাম হাতে দান করা হবে। মীযানের পাল্লায় যার দ্বারা ভালো-মন্দ আমলের পরিমাণ জানা যায় তা রাখা হবে। জাহান্নামের উপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। এর উপর দিয়ে মানুষ অতিক্রম করবে। কেউ অতিক্রম করবে বিদ্যুৎতের গতিতে , কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার গতিতে , পদাতিক গতিতে, কেউ বিচরণ করবে পিঁপড়ার মত তাদের স্তর অনুযায়ী।  এটা মুমিন শংকিত হওয়ার পর হবে। 
বিচারকার্যের জন্য নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত (সুপারিশ) আশ শাফায়াতুল উজমা ( মহান সুপারিশ) ,তিনার হাউজে কাউসারে আগমন এবং  (পরকালে মানুষের) অঙ্গ - প্রতঙ্গের কথন সত্য। জান্নাত - জাহান্নাম  সত্য। উভয়টি এখনো বিদ্যমান আছে, কখনো ধ্বংস হবে না, উভয়টির অধিবাসীও কখনো ধ্বংস হবে না। আল্লাহ তা'আলা মানুষ ও জ্বীন জাতির আগেই জান্নাত - জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন। তিনি জান্নাত - জাহান্নামের অধিবাসীও  সৃষ্টি করেছেন। তিনি জান্নাতিদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ‌ তাঁর অনুগ্রহে। অতঃপর তিনি তাদের  সম্মানিত করবেন কোন ধরণ ও সাদৃশ্যতা বিহীন তাঁর সত্তার বাহ্যিক রূপ দেখানোর মাধ্যমে। জাহান্নামীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন তাঁর ন্যায়বিচার অনুযায়ী। গোনাহের কারণে যে সমস্ত মুমিন সাজাপ্রাপ্ত তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। কেননা, মুমিন জাহান্নামে স্থায়ী অবস্থান করবে না। সম্ভবনা আছে যে, গোনাহের কারণে শাস্তির যোগ্য বান্দাদের আল্লাহ তা'আলা তাঁর করুণা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ কিংবা কোনো নেককার ব্যক্তির সুপারিশের মাধ্যমে মাফ করে দিবেন । কিন্তু কুফরের কারণে শাস্তির যোগ্য ব্যক্তিকে তিনি ক্ষমা করবেন না। কেননা, কুফর ক্ষমা করা সম্ভব নয়।

(লিখেছেন: মুফতি আবুল বাশার)

Post a Comment

0 Comments