Ticker

6/recent/ticker-posts

রমজান মাসের ফজিলত ও আমল।

রমজান মাসের ফজিলত ও আমল

 

রমজান মাসের ফজিলত ও আমল।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো রমজান মাসের রোজা। রমজান মাস হলো ফজিলতের মাস ও আমলের মাস। মুমিনের জন্য রমজান মাস হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। কোরআন ও হাদিসে রমজান মাসের বহু ফজিলত ও  বিশেষ আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ করেছেন। সুতরাং আকাশে রমজানের চাঁদ উঠলেই সকল সুস্থ, মুকীম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং হায়েয-নেফাস থেকে মুক্ত প্রাপ্তবয়স্কা নারীর উপর পূর্ণ রমজান মাসের রোজা রাখা ফরয। ‍রমজানের রোজা কেবল আমাদের উপরই ফরজ করা হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। বরং সকল নবীর উম্মাতের উপরই রমজানের রোজা ফরজ ছিলো। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন :হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।-সূরা বাকারা (২) : ১৮৩

রমজান মাসের ফজিলত:

রমজান মাস অত্যন্ত ফজিলতের মাস। এ মাসের কথা কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ রয়েছে এবং এই মাসের ফজিলতের কথা বিভিন্ন হাদিসেও রয়েছে । 
এক : এ মাসের সাথে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকুনের সর্ম্পক রয়েছে; তা হলো রোজা পালন করা। কারণ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো রমজান মাসে সিয়মা পালন করা। হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। (১) এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ বা মাবুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। (২) নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত আদায় করা। (৪) হজ্ব পালন করা (৫) রমজান মাসের সিয়াম পালন করা। (সহিহ বুখারী:৮, সহিহ মুসলিম:১৬; তিরমিযী: ২৬০৯।

দুই: রমজান মাস হল কোরআন নাযিলের মাস:

এই পবিত্র মাসেই আল্লাহ তায়ালা গোটা মাবনজাতির হেদায়াত ও মুক্তির দিশারী পবিত্র কোরআন নাযিল করেছেন। এই সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।  সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। সূরা বাকারা : ১৮৫।

তিন: হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাতের মাস হল রমজান মাস।

অর্থাৎ রমজান মাসে এমন একটি রাত্র রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম । আর তা হলো লাইলাতুল কদর তথা কদরের রাত্রি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য হাজার বছরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ এ রাত্রটি দান করেছেন। আর এই রাত্রটি হলো প্রতিবছর রমজানের শেষ দশকের কোন এক বেজোড় রাত্র। 

চার: রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন রামজান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অভিশপ্ত শয়তানকে বন্ধি করে রাখা হয়। সহিহ বুখারি: ৩২৭৭, সহিহ মুসলিম: ১০৭৯।

পাঁচ: রমজান মাসে আকাশের দরজা ‍খুলে দেওয়া হয়।

রমজান মাসে আল্লাহ আকাশের কুদরতী দরজাগুলো খুলে দেন। যাতে রোজাদার ব্যক্তির নেক আমল ও দোয়াগুলো দ্রুত আল্লাহর দরবারে পৌঁছে এবং কবুল হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন রমজান মাস আগমন করে তখন আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। সহিহ বুখারি: ১৮৯৯, নাসায়ী: ২০৭৯

ছয়: রমজান মাসে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। 

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন রমজান মাস আসে তখন রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। সহিহ মুসলিম:১০৭৯। সুতরাং রমজান মাসে বেশি ইবাদত-বন্দিগি মেহনত-মুজাহাদা ও নেক কাজের মাধ্যমে মুমিনের জন্য রহমাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

সাত: রমজান মাস হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস । 

এ মহিমান্বিত মাসে আল্লাহ তায়ালা বহু সংখ্যক মানুষকে জান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ তায়ালা প্রতি ইফতারের সময় অর্থাৎ (রমজানের) প্রতি রাতে বহু সংখ্যাক লোককে (জাহান্নাম) থেকে মুক্তি দেন। সুনানে ইবনে মাজাহ:

আট: রমজান মাস হলো গুনাহ মাফের মাস।

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে গুনাহ মাফের বিভিন্ন ‍সুযোগ দিয়েছেন, যাতে বান্দা সকল ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র হতে পারে। রমজান মাস এমনি একটি সুযোগ, এতে বান্দার সগিরাহ ‍গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান মধ্যবর্তী এ সময়ের পাপ মোচনকারী- যখন কবিরা গুনাহগুলো বর্জন করা হয়। সহিহ মুসলিম: ৩৭০। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রমজানের রোজা পালন করবে, তার অতীতের সকল (সগিরাহ) গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। সহিহ বুখারী:৩৮; সুনানে নাসায়ী: ২১৭০।

নয়: রমজান মাস হলো অধিক সাওয়াব লাভের মাস।

অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের আমলের সাওয়াব বেশি হয়। রমজান মাসে একটি নফর আদায় করা অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার সমতুল্য এবং এ মাসে একটি ফরজ আদায় করা সাওয়াব এর দিক দিয়ে সত্তোরটি ফরজ আদায় করার সমতুল্য। হযরত সালমান ফারসী (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করে, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরয সম্পাদন করল। সহিহ ইবনে খুজায়মাহ:১৮৮৭; 

দশ: রমজান হলো দোয়া কবুলের মাস।

দোয়া হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সাথে বন্দার কথোপকথনের মাধ্যম। আল্লাহর কাছে যে কোনো সময় দোয়া করা যায়। আল্লাহ তায়ালা পরম করুনাময় ও ক্ষমাশীল। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসে। বান্দা বিপদ আপদে ধৈর্যধারণ করে কায়মনোবাক্যে দোয়া প্রার্থনা করাকে আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। বিশেষ করে রমাজান মাসে দোয়া করলে বেশি কবুল হয়। হযরর আবু সাঈদ খুদরী (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই রমযানের দিবারাত্রে  মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে অনেক (দোযখ থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষ (যাদেরকে তিনি মুক্ত করে থাকেন)। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রয়েছে প্রতি দিবারাত্রে কবুল যোগ্য দু’আ। (প্রার্থনা করলে কবুল হয়ে থাকে।)  সুনানে আহমাদ: ৭৪৫০। 

রমজান মাসের আমলসমূহ।

রমজান হলো আমলের মাস। আল্লাহর নৈকট্য ও পূণ্য লাভের মাস। নিজেকে সংশোধন করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার মাস। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাস। রমজান মাস আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করে দিতেন। রমাজন মাসের অন্যতম আমল হলো রোজা রাখা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন: সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে।- সূরা বাকারা (২) : ১৮৫

এক: রমজানের রোজা পালন করা।

রোজা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। রোজার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দিবেন এবং বিনা হিসাবে দিবেন। সকল নেক কাজের জন্যই আল্লাহ প্রতিদান রেখেছেন। আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা ইনসাফের সাথে সকলের নেক আমলের প্রতিদান দিবেন। তবে রোজার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ রোজা পালনকারীকে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে তার প্রতিদান দিবেন এবং পুরস্কৃত করবেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। সহিহ মুসলিম:১১৫১
তা ছাড়া রোজাদার ব্যক্তিকে “রাইয়ান” নামক বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। এই দরজা দিয়ে কেবল রোজদার ব্যক্তিরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। 

দুই: কিয়ামুললাইল তথা তারাবির নামাজ আদায় করা।

রমজানের অন্যতম আমল হলো রাতে তারাবীহর নামাজ আদায় করা। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানেরসহিত  সাওয়াবের আশায় কিয়ামুর রমজান তথা তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার অতীতের সকল (সগিরাহ) গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। সহিহ ‍বুখারী: ৩৭। 
তারবীহর নামাজ জামাতে আদায় করা সুন্নাত। তাই আমাদের উচিৎ প্রতিদিন তারবীহর নামাজে অংশগ্রহণ করা।

তিন: বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা।

রমজান হলো কোরআন নাযিলের মাস। অন্য মাসের তুলনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি কোরআন তিলাওয়াত করতেন। আমাদেরও উচিৎ এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা, কোরআনের মর্ম অনুধাবন করার চেষ্টা করা এবং কোরআনের সাথে সময় কাটানো। আমরা যারা কোরআন পড়তে পারি না তাদের উচিৎ এই মাসটিকে সুবর্ণ সুযোগ  মনে করে কোরআন শিখার চেষ্টা করা এবং কোরআন অনুযায়ী জীবন গড়ার চেষ্টা করা।

চার: বেশি বেশি দান সদকাহ করা।

রমজান মাস যেহেতু অত্যন্ত ফজিলতের মাস। তাই এ মাসে বেশি বেশি দান সদকাহ করা উত্তম। এই মাসে গরিব-মিসকিন এতিম, বিধবা ও অসহায় লোকের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদেরকে দান খয়রাত করা উত্তম আমল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনিতেই অনেক দানশীল ছিলেন। রমজান আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দানের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিতেন। এই সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার এ দানশীলতা আরও বেড়ে যেত। সহিহ বুখারি: ১৯০২)

পাঁচ: তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা।

তাহাজ্জুদ নামাজ এমনিতেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় মাধ্যম হলো নির্জন রমজনিতে শয্যা ত্যাগ করে আল্লাহর জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। রমজানের ফজিলতের কারণে এ মাসে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও সাওয়াব আরো বেশি। রমজান মাসে সাহরি খাওয়ার জন্য যেহেতু আমাদের শেষ রাতে উঠতেই হয়, তাই এ মাসে তাহাজ্জুদ পড়াটা খুবই সহজ। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাতের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ। সহিহ মুসলিম : ২৮১২

ছয়:  রোজাদারকে ইফতার করানো।

রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি রোজদারকে ইফতার করায়, তার জন্য রয়েছে ইফতারকারীদের সমান সাওয়াব এবং এ জন্য তাদের সাওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ:১৭৪৬)
এ হাদিস থেকে বুঝা যায় একজন রোজাদারকে ইফতার করালে সহজেই আমরা আরেকটি রোজার সাওয়াব পেয়ে যাবো। সুতরাং এ সুযোগ মিস না করে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী অন্যকে ইফতার করানোর মধ্যে অংশগ্রহন করা প্রয়োজন। তাছাড়া অনেক গরিব অসহায় লোক আছে যারা ভালো কিছু দিয়ে ইফতার করা সামর্থ্য নাই আমরা যদি তাদের ইফতারের ব্যবস্থা করি তাহলে তাদের রোজার সমপরিমাণ সাওয়াব আমাদের আমলনামায়ও দেওয়া হবে। 

সাত: বেশি বেশি দোয়া করা।

রমজানের অন্যতম আমল হলো বেশি বেশি আল্লাহর দরবারে দোয়া করা। কারণ রমজান হলো দোয়া কবুল হওয়ার মাস। বিশেষ করে ইফতারের সময় দোয়া বেশি কবুল হয়। তাই ইফতাররের সময় নিজের গুনাহ মাফের জন্য এবং সকর সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহর দরবারের বেশি বেশি দোয়া করা প্রয়োজন। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং বান্দার দোয়া বেশি কবুল করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করে, তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ দোয়া কবুল হয়)।সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস :১৭৫৩ 

আট: সামর্থ্য থাকলে উমরা করা।

রমজানে সকল নেক কাজেই সাওয়াব বেশি। এ মাসে একটি উমরা করলে একটি হজ আদায়ের সাওয়াব হয়। তাই সামর্থ্য থাকলে রমজান মাসে উমরা করা যেতে পারে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম   বলেছেন, ‘রমজান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)

নয়: ইতেকাফ করা। 

ইতেকাফ মানে হলো অবস্থান করা। অর্থাৎ নিজেকে দুনিয়াবী সকর কাজ থেকে গুটিয়ে নিয়ে এবাদত বন্দিগির মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশায় একাকী কিছু সময় যাপন করা। রাসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং তার সাহবীগণ রমজানের শেষ দশদিন সব সময় ইতেকাফ করতেন। হযরত ইবনে উমর (রাযি.) বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। সহিহ মুসলিম:১১৭১
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘প্রত্যেক রমাজানেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। (সহিহ বুখারি : ২০৪৪) 

দশ: লাইলাতুল কদর তালাশ করা।

রমজানের শেষ দশকেই নাযিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। আর এই শেষ দশকেই লুকিয়ে আছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে (অর্থাৎ লাইলাতুল কদরে)। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত কী? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে প্রতিটি কাজের জন্য ফেরেশতারা এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাতে শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।’ (সূরা কদর ৯৭:১-৫)
বিভিন্ন হাদিস থেকেও বুঝা যায় এই মহিমান্বিত রাত্রটি লুকিয়ে আছে রমজানের শেষ দশকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো। সহিহ বুখারি:২০১৭
মুমিনের জীবনে লাইলাতুল কদর পাওয়াটা সবচেয়ে সৌভাগ্যের বিষয়। আর এ রাত্রিটি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপয় হলো রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফে বসে ইবাদত বন্দিগিতে কাটানো। 
একবার হযরত আয়েশা (রাযি.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তখন কি বলব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি এই দোয়াটি পাঠ করবে :اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي 
দোয়াটির বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম; তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: 'হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।

Post a Comment

0 Comments