Ticker

6/recent/ticker-posts

দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার।

দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার।

 দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার। 

পোস্টের সূচি।
========== 
দেনমোহর কি?
মোহর আদায় করা কি স্বামীর উপর ওয়াজিব। 
বিবাহের সময় মোহর নির্ধারণ করা। 
মোহর বাড়িয়ে ধরার কিছু অযৌক্তিক কারণ।
মোহরের হকদার কে?
মোহর নগদ প্রদান করা উত্তম নাকি বাকি রাখাও বৈধ। 
মোহরে ইসলামের উদারনীতি। 
মোহরের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ পরিমাণ কত। 
মোহর গ্রাস করা মহিলার প্রতি বড় জুলুম। 
মোহর নিয়ে বাড়াবাড়ির খারাপ প্রভাব। 
মোহরের সাথে স্ত্রীর কিছু অবস্থা। 

দেনমোহর স্ত্রীর অধিকা।

ইসলাম মোহরকে মহিলার জন্য সম্মানের ভূষণ বানিয়েছে, বিবাহের প্রতিবন্ধক বানায়নি। আর এ জন্যই হয়তো শরিয়ত মোহর সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করেনি। বরং মোহর নির্ধারণের বিষয়টি মানুষের উপর ছেড়ে দিয়েছে, যাতে সকলে তার সাধ্যানুযায়ী মোহর নির্ধারণ করে নিতে পারে। আর রাসূল (সা.)ও সাধ্যানুযায়ী মোহর নির্ধারণ করতে তার উম্মাতকে উৎসাহিত করেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন: সর্বোত্তম বিবাহ হল ঐ বিবাহ যাতে সাধ্যানুযায়ী মোহর কম নির্ধারাণ করা হয়। রাসূল (সা.) এক সাহাবীকে বলেছিলেন: (যে সাহাবী রাসূল (সা.) এর কাছে আবেদন করেছিল এক মহিলাকে তার সাথে বিবাহ করিয়ে দেয়ার জন্য, যে মহিলা নিজেকে রাসূল (সা.)  এর সাথে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিল) যাও তোমার কাছে কোন কিছু না থাকলে কম পক্ষে মোহরের জন্য লোহার এক আংটি হলেও নিয়ে আসো। (সহিহ বুখারী ৭/১৩)
এভাবে ইসলাম মোহর স্বামীর উপর ওয়াজিব করেছে, কিন্তু বিবাহ বন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক করেনি। তাসত্বেও মানুষ মোহর নির্ধারণে বাড়াবাড়ি করে মোহরকে বিবাহের পথে বিশাল এক প্রতিবন্ধক বানিয়ে নিয়েছে। যার ফলে সামাজে আনেক যুবক যুবতি বিবাহের প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন অবিবাহিত রয়ে যায় । 

মোহর কি?  

মোহর হল বিবাহের কারণে স্বামী কতৃক স্ত্রীকে প্রদানকৃত সম্পদ  বা উপকারী কোন বস্তু।


মোহর আদায় করা কি স্বামীর উপর ওয়াজীব?

হ্যাঁ, কুরআন ও হাদিসের আলোকে সকল মাযহবেই স্বামী কতৃক স্ত্রীর দেনমোহর আদায় করা ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
অর্থ: নারীদেরকে খুশি মনে তাদের মোহর আদায় করে দাও। (সূরা নিসা:৪)

অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছন: 
অর্থ: সুতরাং সেই দাসীদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিবাহ করবে এবং তাদেরকে ন্যায়ানুগতভাবে তাদের মোহর প্রদান করবে। (সূরা নিসা:২৫)
অন্যত্রে আল্লাহ বলেছেন:
অর্থ: সুতরাং তোমরা (বিবাহ সূত্রে) যে সকল নারী দ্বারা অনন্দ ভোগ করছ, তাদেরকে ধার্যকৃত মোহর প্রদান করো। অবশ্য (মোহর) ধার্য করার পরও তোমরা পরস্পরে যেই (কম বেশি করা) সম্পর্কে সম্মত হবে, তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। সূরা নিসা: ২৪
আর তাদেরকে (নারীদেরকে) তোমাদের বিয়ে করতে কোন গুনাহ নেই, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মোহরানা প্রদান করবে। সূরা মুমতাহিনা: ১০      
প্রাখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবী (রহ.) স্বামী কতৃক স্ত্রীর মোহর প্রদান করাটা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা তথা সকলের ঐক্যমত সংগঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ।

তা ছাড়া রাসূল (সা.) এর হাদিস দ্বারাও মোহর প্রদান করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যপারটি সুস্পষ্ট। কারণ রাসূল (সা.) ঐ সাহাবী যিনি বিবাহ করতে চেয়েছিল তাকে বলেছিলেন: তোমার সাথে কোন কিছু আছে কি? সে উত্তর দিল, জী,না। তখন রাসূল (সা.) তাকে বললেন যাও মোহর হিসাবে একটা লোহার আংটি হলেও নিয়ে আসো। সে ফিরে এসে রাসূল (সা.) কে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! শুধু আমার পরনের লুঙ্গিটি ছাড়া আমার কাছে আর কোন কিছুই নেই। মোহর ছাড়া শরিয়তে বিবাহের সুযোগ থাকলে এ দরিদ্র সাহাবীই মোহর ছাড়া বিবাহ করার বেশি হকদার ছিলো। কিন্তু রাসূল (সা.) তার থেকেও মোহর চেয়েছেন এবং তার থেকেও মোহর আদায় করেছেন। যা থেকে মোহর প্রদান করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট।

বিবাহের সময় মোহর নির্ধারণ করা।

উত্তম হল বিবাহের সময়ই মোহর নির্ধারণ করে নেয়া। কারণ রাসূল (সা.) এক সাহাবীকে বলেছেন: এ মহিলাকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম তোমার সাথে যে কুরআন রয়েছে তার বিনিময়ে। অন্য আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) সুফিয়া (রাযি.) কে আযাদ তথা মুক্ত করেছেন মোহরের বিনিময়ে। তাছাড়া বিবাহের সময় মোহর নির্ধারণ করে নিলে পরবর্তীতে মোহর নিয়ে কলহ থেকেও নিরাপদ থাকা যায়। এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় যে. একঃ বিবাহ বন্ধনের সময় মোহর উল্লেখ করা টা বিবাহের কোন রুকুন বা শর্ত নয়, বরং বিবাহের একটি প্রভাব মাত্র। বিবাহ বন্ধনের সময় মোহর উল্লেখ করা ছাড়াও বিবাহ হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
অর্থ: এতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই যে, তোমরা স্ত্রীদের এমন সময়ে তালাক দেবে যে, তখনও পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করনি এবং তাদের মোহরও ধার্য করনি। সূরা বাকারা ২৩৬
অর্থাৎ স্ত্রীকে স্পর্শ করা এবং তার মোহর নির্ধারণ করার পূর্বে তালাক দিলেও কোন গুনাহ হবে না। তাছাড়া স্ত্রীর সাথে মিলন করার পরও মোহর নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি বিবাহের সময় মোহর নির্ধারণ না করে থাকে আর এ অবস্থায় তালাক সংগঠিত হয়ে যায় বা স্বামী মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মোহরে মিসিল তথা স্ত্রীর মা খালার মোহর যে পরিমাণ ছিল সেও সে পরিমাণ মোহর পাবে। আর বিবাহের পরেও মোহর নির্ধারণ করা বৈধ হওয়ার দলিল হল:
হযরত উকবা ইবনে আমের (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এক ব্যক্তিকে বললেন: তুমি কি চাও যে, আমি অমুক মহিলার সাথে তোমাকে বিবাহ করিয়ে দেবো? সাহাবী উত্তর দিলেন, জী, হ্যাঁ। রাসূল (সা.) ঐ মহিলাকেও বললেন তুমি কি রাজি আছো যে, আমি তোমাকে অমুক পুরুষের সাথে বিবাহ দিয়ে দেবো? মহিলা উত্তর দিলো জী, হ্যাঁ। আমি তাতে রাজি আছি। তখন রাসূল (সা.) তাদেরকে বিবাহ পড়িয়ে দিলেন এবং তারা মিলনও করল। কিন্তু তখন ঐ মহিলার জন্য কোন মোহর নির্ধারণ করেননি এবং মোহর হিসাবে তাকে কোন কিছু দেননি। আর এ সাহাবী হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। হুদায়বিয়া যুদ্ধে যারা অংশ গ্রহণ করেছিল তাদেরকে খয়বার থেকে প্রাপ্ত সম্পদ গণিমত হিসাবে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। আর যখন এ সাহাবীর মৃত্যুর সময় গুণিয়ে এলো তখন তিনি বলেছিলেন রাসূল (সা.) অমুক মহিলাকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বিবাহের সময় তার মোহার নির্ধারণ করিনি এবং এখন পর্যন্ত তার মোহর আদায় করিনি। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে গেলাম যে, এখন আমি তাকে তার মোহর দিয়ে দিচ্ছি। আমি খায়বারের যে অংশ পাবো, তা যেন সে মোহর হিসাবে নিয়ে নেয়। তখন ঐ মহিলা মোহর হিসাবে খায়বারের ঐ অংশ নিয়ে নিয়েছেন এবং এই সাহাবীর মৃত্যুর পর তা এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন। সুনানে আবি দাউদ: ২/২৩৮

আর মোহরে মিসিল ওয়াজিব হওয়ার দলিল হল: হযরত আলকামা (রাযি.) থেকে বর্ণিত সেই হাদিস যেখানে  তিনি বর্ণনা করেন যে,  একদা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) এক মহিলার কাছে আসলেন যার স্বামী মারা গিয়েছিল অথচ তার জন্য সে কোন মোহর নির্ধারণ করে যায়নি এবং ঐ মহিলার সাথে বিবাহের পর সহবাসও করেনি। সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) এ মহিলার মোহর ও ইদ্দত পালন সর্ম্পকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) এর সামনে মতানৈক্য করতেছিল। তখন তিনি বলেন: এ মহিলা মোহরে মিসল তথা তার মা খালাদের যে পরিমাণ মোহর ছিল সেও সেই পরিমাণ মোহর পাবে এবং সে তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মিরাস পাবে। আর তার জন্য ইদ্দত পালন করাও আবশ্যক। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) এর এ ফয়সালা শুনে মাকাল ইবনে ইয়াসির (রাযি.)  বললেন:
আবশ্যক। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) এর এ ফয়সালা শুনে মাকাল ইবনে ইয়াসির (রাযি.)  বললেন:
অর্থ: আমি শুনেছি রাসূল (সা.) ও বারওয়া ইবনাতে ওয়াশিক (রাযি.) এর ব্যাপারে এমন ফায়সালাই দিয়েছিলেন। সুনানে আবি দাউদ: ২/ ২৩৭
আর এ মাসআলাটিকে আল মুফাওওয়াজা বলা হয়। মোহরে মিসিল দ্বারা উদ্দেশ্য হল স্ত্রীর রক্তের সম্পর্কীয় নারীদের যে মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে, সে পরিমাণ মোহর দেয়া। আর যদি তার আত্মীয়দের মধ্যে মোহরে মিসিলের পরিমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে গ্রামের অন্যান্য পরিবারের মেয়েদের সাধারণত যে পরিমাণ মোহর দেয়া হয়, তাকেও সে পরিমাণ মোহর দেয়া হবে।

মোহর বাড়িয়ে ধরার কিছু অযৌক্তিক কারণ।

আমাদের সমাজে মোহর বাড়িয়ে ধরার কিছু অযৌক্তিক কারণ বদ্ধমূল রয়েছে।
প্রথম কারণঃ 
অধিক মোহর ভবিষ্যতে কনের জন্য নিরাপদের কারণ হওয়ার মত ভ্রান্ত ধারন পোষণ করা। কিছু মানুষ মনে করে অধিক মোহর নির্ধারণ করাটা কনের ভবিষ্যত নিরাপত্তার কারণ হবে। অথচ স্বামীর গাড়ে সাধ্যাতীত মোহর চাপিয়ে দেয়াটা স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং ক্রধ ও ঝগড়া ঝাটির কারণ হয়ে দাড়ায়। আর তখন সম্পদ দিয়েই বা কি আর হবে। আর যদিও তা ভবিষ্যত নিরাপত্তার কারণ হয়, কিন্তু অল্প কিছু দিন পরই সাধ্যাতীত মোহরের কারণে পারিবারিক জীবনে বিদ্বেষ আর কলহ সৃষ্টি হয়। আর এ জন্যই রাসূল (সা.)  ইরশাদ করেছেন: কল্যাণকর ও সর্বোত্তম বিবাহ হল যাতে  মোহর কম হয়। সুতরাং জ্ঞাণী তো সে ব্যাক্তিই যিনি মহর কমিয়ে ধরে মেয়ের বিবাহকে বরকতময় করে তুলে, মহর বাড়িয়ে ধরে বিবাহকে অকল্যাণের দিকে ঠেলে দেয় না। তাই তো আমাদের পূর্বসূরিদের একজন বলেছেন: যারা অধিক পরিমানে মোহর প্রদান করতে সক্ষম তাদের জন্যও উচিত সমাজে বিবাহকে সহজ করণার্থে এবং বরকত লাভের জন্য বেশি মহর ধার্য না করা। তাছাড়া যাতে করে তাদের এই কাজ সমাজের প্রচলন না হয়ে যায় এবং অন্যদের জন্য অনুসরণীয় না হয়ে যায় সে জন্যেও সাধ্য থাকা সত্বেও মোহর কম করে ধার্য করবে। কারণ ধনীরা মোহর বাড়িয়ে ধরলে একসময় মোহর বাড়িয়ে ধরাটাই সমাজে প্রথা বা রীতি হয়ে যাবে। আর তখন গরিব ছেলে মেয়েদের বিবাহ অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয় কারণঃ
নাম ফোটানো, গর্ব করা ও অহঙ্কারের জন্য মোহর বাড়িয়ে ধরা। আমাদের সমাজের কিছু মানুষ মেয়ের মোহর বাড়িয়ে ধরাকে নিজের জন্য সম্মান ও গর্বের কারণ মনে করে। অথচ এ ধরণের চিন্তাভাবনা মোটেও ঠিক না। কারণ সম্মান তো নিজে খরচ করা, অন্যকে দিতে পারা, সহনশীল হওয়া  এবং অন্যের জন্য সহজ করার মধ্যে। অন্য কারো থেকে গ্রহণ করা, অন্যের থেকে চেয়ে নেয়া বা কারো উপর সাধ্যাতীত কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার মধ্যে সম্মান নয়। 

তৃতীয় কারণঃ
মেয়ের অভিভাবকদের মোহরের নামে সম্পদ উপার্জনের লালসা। অধিকাংশ সাধারণ মানুষই মেয়ের জন্য বড় অংকের মোহর নির্ধারণ করে শুধু  মেয়ের মোহরের নাম দিয়ে সম্পদের মালিক হওয়ার লোভে। আর এ জন্য ই মেয়ের অভিভাবক আগে থেকেই বড় অংকের মোহর নির্ধারণ করে রাখে। যে ছেলে এ পরিমাণ মোহর দিতে পারবে সেই তাকে বিবাহ করতে পারবে, আর না হয়ত ফিরে যাবে। এভাবে কত মেয়ে আমাদের সমাজে শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে তার অভিভাবক ঐ ছেলেকে খুজে পাওয়া পর্যন্ত, যে ছেলে সেই পরিমাণ মোহর দিয়ে তাকে বিবাহ করতে পারবে। আর শুধু এ কারণে অনেক যুবক যুবতী দীর্ঘ সময় অবিবাহিত থেকে যায়, যার ফলে সমাজে যিনা ব্যভিচার ও ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি হয় । 

মোহরের হকদার কে?

উল্লেখিত আলোচনা থেকে একটি প্রশ্ন হয়। আর তা হল এই যে, মোহরের হকদার কে? মেয়ের বাবা বা তার কোন অভিভাবকের মোহর ভোগ করার অধিকার আছে কি? এবং তাদের কি এ অধিকার রয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণের কোন মোহর নির্ধারণ করবে আর বিবাহের প্রস্তাবকারী সে পরিমাণ মোহর না দিতে পারলে মেয়ের বিবাহ ফিরিয়ে দেবে? প্রশ্নটির সহজ উত্তর হল সর্বাবস্তায় মোহর এটা মেয়ের অধিকার। আর এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন:
অর্থ: তাদেরকে তাদের হক দিয়ে দাও। সূরা নিসা:২৪
অপর আয়াতে ইরশাদ করেন:
অর্থঃ এবং যদি তাদের একজনকে প্রচুর ধন সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। সূরা নিসা:২০
আরেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
অর্থ: খুশীমনে স্ত্রীদের মোহর দিয়ে দাও। সূরা নিসা:৪
 রাসূল (সা.) মুলায়ানার ঘটনায় বলেছেন: 
 রাসূল (সা.) লি’আনকারীদ্বয়কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন:তোমাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহরই। তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। স্ত্রীর উপর তোমার কোনো অধিকার নেই। লোকটি বললঃ তবে আমার মালের কী হবে? তিঁনি বললেনঃ তুমি কোনো মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও তাহলে এর বদলে তুমি তার লজ্জাস্থানকে হালাল করে নিয়েছিলে। আর যদি তার উপর মিথ্যারোপ করে থাক, তবে তা তো বহু দূরের ব্যপার।  বুখারি”৭/৫৫
তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন: অর্থ: খুশীমনে স্ত্রীদের মোহর দিয়ে দাও। সূরা নিসা:৪

উল্লেখিত আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা মোহরকে মহিলাদের দিকে সম্বোধন করেছেন। আর এ ধরনের সম্বোধন আরবী ব্যাকরণ আনুযায়ী মালিকানা বুঝানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আয়াত থেকেও এটা সুস্পষ্ট যে, মোহর একমাত্র মেয়ের অধিকার। তার অন্য কোন অভিভাবকদের মোহরের টাকা বা সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। উল্লেখিত আয়াতের তাফসিরে শায়েখ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস সাদী (রহ:) বলেছেনঃ মেয়ে বুঝমান ও জ্ঞানসম্পূর্ণ হলে মোহর মেয়ের কাছেই সোপর্দ করা হবে এবং বিবাহ সম্পূর্ণ হওয়ার দ্বারা সে তার মালিক হয়ে যাবে। কারণ আয়াতের মাধ্যে যে সম্বোধন করা হয়েছে তা মালিকানা বুঝানোর জন্যই। তিনি আরও বলেছেন: মেয়ের অনুমতি ছাড়া তার কোন অভিভাবকের জন্য উক্ত মোহর ভোগ করারও কোন সুযোগ শরিয়তে নেই । এমনিভাবে অনেক মুফাস্সিরীনে কেরামদের অভিমত হলো উক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে মেয়ের অভিভাবদেরকে অন্যায়ভাবে মেয়ের মোহর গ্রাস করা থেকে নিষেধ করার জন্য। যেমন ইবনে কাছির (রাহ:) এ আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন, হযরত আবু সলেহ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, ইসলামের পূর্বযুগে অভিভাবকগণ তাদের মেয়েদেরকে বিবাহ দিয়ে তার মোহর নিজেরা ভোগ করতো।  মেয়েদেরকে তা থেকে কিছুই দিত না। আর এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাযিল করেছেন: অর্থ: খুশীমনে স্ত্রীদের মোহর দিয়ে দাও। (সূরা নিসা:৪ ) এ প্রেক্ষাপটটি ইবনে আবি হাতেম ও ইবনে জারির (রহ.) উল্লেখ করেছেন । 

মোহর নগদ প্রদান করা উত্তম? নাকি বাকি রাখাও বৈধ?

বিবাহে স্ত্রীকে মোহর নগদ প্রদান করাই উত্তম। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: অর্থ: আর তাদেরকে (নারীদেরকে) তোমাদের বিয়ে করতে কোন গুনাহ নেই, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মোহরানা প্রদান করবে। (সূরা মুমতাহিনা: ১০)      
রাসূল (সা.) হাদিস শরিফে ইরশাদ করেছেন: التمس ولوخاتمامن حديد অর্থ: লোহার একটি আংটি হলেও নিয়ে আসো।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন:
অর্থ: যখন আলি (রাযি.) হযরত ফাতেমা (রাযি.) কে বিবাহ করলেন তখন রাসূল (সা.) তাকে বললেন: তাকে (স্ত্রীকে) কিছু জিনিস দাও। আলি রাযি. বললেন, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তখন রাসূল সা. তাকে বললেন: তোমার হুতামি বর্মটি কোথায়? হযরত আলি (রাযি.) উত্তর দিলেন এটা আমার কাছেই আছে। রাসূল (সা.) বললেন: এটাই তাকে (স্ত্রীকে) দিয়ে দাও। সুনানে আবি দাউদ:২১২৫
তা ছাড়া মোহর হল স্বামীর যিম্মায় তার স্ত্রীর ঋণ। আর ঋণ বা অন্যান্য অধিকার নগদ আদায় করাই মুসতাহাব। তবে মোহর বিলম্বে আদায় করাও বৈধ। কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
অর্থ: এতেও তোমাদের কোন গুনাহ নেই যে, তোমরা স্ত্রীদের এমন সময়ে তালাক দেবে যে, তখনও
পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করনি এবং তাদের মোহরও ধার্য করনি। সূরা বাকারা ২৩৬।
সুতরাং এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের পর বিলম্বে মোহর আদায় করাও বৈধ ।

মোহরে ইসলামের উদারতা ও সহজ নীতি। 

ইসলামের উদারতা ও সহজ নীতি এবং বিবাহের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও মুসলিম উম্মাহের থেকে জটিলতা  দূরকরণের এক উজ্জর দৃষ্টান্ত হলো: কারো জন্য নগদ মোহর প্রদান সম্ভব না হলে মোহর বাকি রেখেও বিবাহ করা বৈধ হওয়া। এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, পুরো মোহর কিংবা আংশিক মোহর নগদ প্রদান বা বিলম্বে প্রদান করাও বৈধ। এমনিভাবে  মোহর বিলম্বের ক্ষেত্রে অল্প মেয়াদী কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী অথবা তালাক ও মৃত্যু এ দু’টি থেকে যা আগে সংঘঠিত হবে তখন মোহর প্রদান করা হবে। এভাবে মোহরের মেয়াদ নির্ধারণ করাও বৈধ ।  তবে সর্বোত্তম হলো সম্ভব হলে নগদ পরিপূর্ণ মোহর আদায় করে দেয়া। যেমনটি সালফে সালেহীনদের আমলও বটে। তা ছাড়া বুখারী শরিফের হাদিস থেকেও বুঝা যায় মোহর নগদ প্রদান করাই উত্তম। আর সে হাদিসটি হলো: অর্থঃ হযরত সাহল ইবনু সা’দ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, কোন এক মহিলা রসূল (সা.) এর কাছে এসে বলল, আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে দান করলাম। এরপর সে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকল। তখন একজন লোক বলল, আপনার দরকার না থাকলে, আমার সাথে এর বিয়ে দিয়ে দিন। তখন রসূল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে মোহর দেয়ার মতো কি কিছু আছে? লোকটি বলল, আমার এই লুঙ্গিটি ছাড়া আর কিছুই নেই। রাসূল (সা.) বললেন, যদি তুমি লুঙ্গিটি তাকে দিয়ে দাও, তাহলে তোমার কাছে কিছুই থাকবে না। কাজেই তুমি অন্য কিছু খুঁজে আন। লোকটি বলল, আমি কোনো কিছুই পেলাম না। তখন রাসূল (সা.) তাকে বললেন. খুঁজে দেখো, লোহার একটি আংটি হলেও নিয়ে আসো। সহিহ বুখারী:৭/১৭
উল্লেখিত হাদিসটিতে রাসূল (সা.) এই লোকের কাছে মহিলাটিকে মোহর বাকি রেখে বিবাহ দেননি।

 মোহরের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ কত। 

মোহরের সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ নেই। কেউ চাইলে নিজের স্ত্রীকে মোটা অংকের মোহর দিতে পারবে। সামর্থ্য থাকলে নিজ স্ত্রীকে অধিক মোহর দেওয়াটাই পছন্দনীয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন: তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির করো এবং তাদের একজনকে অগাধ অর্থও (সম্পদের স্তূপ) দিয়ে থাকো, তবু তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না...। (সুরা : নিসা, আয়াত:২০) 
আর যে ব্যক্তি বেশি মোহর নির্ধাণ করে সেটা আদায় করা ইচ্ছা না থাকে কিংবা বেশি মোহর আদায় করতে অক্ষম ব্যক্তি জন্য বেশি মোহর নির্ধাণ করা মাকরূহ। 
ইসলামী শরিয়তে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ১০ দিরহাম। ১০ দিরহামের পরিমাণ বর্তমান হিসাবে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপা। সুতরাং পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপার মূল্য যখন যা, মহরের সর্বনিম্ন মূল্যও তখন তা।

মোহর গ্রাস করা মহিলার প্রতি বড় জুলুম ।

শরিয়ত পুরুষদেরকে মহিলাদের অধিকার মোহর আদায়ের প্রতি  সোচ্চার হতে উদ্ব্দ্ধু করেছে। রাসূল (সা.) এই হক বিনষ্টকারীকে আখেরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হওয়ার কথা বলেছেন। হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন: অর্থ :আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো কোন পুরুষ কোন নারীকে বিবাহ করে সে নারী থেকে পুরুষ তার চাহিদা পূরণ করে তাকে তালাক দিয়ে দেয়া এবং তার মোহর আদায় না করা।

শরিয়তের দৃষ্টিতে মহিলা কোন অবস্থায় তার মোহর থেকে বঞ্চিত হবে না। কিন্তু সে মহিলা যদি খুল’য়ার নীতি অবলম্ভন করে তবেই শুধু মোহর থেকে বঞ্চিত হবে। খুল’আ বলা হয়, স্ত্রী কর্তৃক মোহরের বিনিময়ে স্বামীর থেকে তালাক তলব করা। আর খুল’আ তখনই বৈধ হবে যখন স্বামীর ব্যাপারে এমন কোন একটি পাওয়া যাবে যা বৈবাহিক অধিকারসমুহ বিনষ্ট হওয়া এবং স্ত্রীর সাথে অমানবিক কোন আচরণ করার ভয় থাকে । আর সে ত্রæটি স্ত্রীর কোন অন্যায় ব্যতীত শুধু স্বামীর পক্ষ থেকে হতে হবে। পাশাপাশি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর প্রতি আর কোন দিন সদাচরণ না করার আশঙ্কাও থাকতে হবে। তখন স্ত্রী খুল’আর মাধ্যমে স্বামী থেকে তালাক তলব করলে সে তাকে উত্তমরূপে তালাক দিয়ে দেবে। কেননা তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামীর হাতে। আর এ অবস্থায় স্বামীর এ অধিকার নেই যে, সে তার স্ত্রীকে যা কিছু বৈবাহিক সর্ম্পক থাকা কালে দিয়েছে তা থেকে কোন কিছু ফিরিয়ে নেবে। বরং স্বামীর জন্য অবাশ্যক হল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ত্রীর সমস্ত অধিকার আদায় করে দেয়া। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে স্বামীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: অর্থ: যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না । সূরা নিসা:২০

 মোহর নিয়ে বাড়াবাড়ির খারাপ প্রভাব ।

ইসলামের মৌলিক আর্দশ ও দৃষ্টিভঙ্গি ঐ সমস্ত লোকদের দৃষ্টিভঙ্গির মতো নয়, যারা মোহর নিয়ে বাড়িবাড়িতে মেতে ওঠে। এমনকি কারো কারো অভিভাবক তো মেয়ের বিবাহের জন্য বের হলে মোহরই থাকে তাদের আলোচনার শীর্ষে। তাদের উদ্দেশ্যও থাকে বড় অঙ্কের মোহর নির্ধারণ করে  রেকর্ড গড়ার। যেন তারা মোহর নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং নিলামে পণ্য বিক্রি করতে বসেছে। অথচ নারী কোন বাজারের পণ্য নয় যে, তাকে নিয়ে এমন নির্লজ্জ আর নিম্ন মানের কর্ম-কাণ্ড করতে হবে। তা ছাড়া মোহর নিয়ে বাড়াবাড়ির ফলে সমাজে অনেক নীতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:
(এক)  অধিকাংশ যুবক-যুবতি অবিবাহিত থেকে যায়।
(দুই) যুবক যুবতির চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটে। যার ফলে তারা বিবাহ থেকে নিরাশ হয়ে অবৈধ পন্থ অবলম্ভন করে।
(তিন) যৌবনকালে তরুণ-তরুনীদের আশার আলো নিভে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন মানসিক রোগ সৃষ্টি হয়।
(চার) অনেক ছেলে মেয়ে তাদের মা-বাবার অবাধ্য হয়ে যায় এবং তারা তাদের উত্তম চরিত্র ও মহৎ ঐতিহ্যের উপর ঔদ্ধত্য হয়ে উঠে।
(পাঁচ) সৎচরিত্রবান কোন ছেলে হলেও মেয়ের অভিভাবক ঐ ছেলের কাছে এ ধারণা করে বিবাহ দেয়া থেকে বিরত থাকে যে, সে হয়তো বেশি মোহর দিতে পারবে না। আর আশায় থাকে এমন কোন ছেলের যে অধিক মোহর প্রদান করবে যদিও এই ছেলের মধ্যে ধর্ম-কর্ম ও উত্তম চরিত্রের লেশ মাত্রও না থাকে। এভাবে অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদেরকে ধোঁকা দেয় অথচ মেয়ের ভবিষৎ সুখের আশা করে না।
(ছয়) সর্বপুরি স্বামীর ঘাড়ে সাধ্যাতীত মোহর চাপিয়ে দেওয়াটা স্বামীর জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়াঁয়, যার ফলে দিন দিন স্বামীর মনে স্ত্রী ও তার পরিবারের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হতে থাকে ।

মোহরের সাথে স্ত্রীর কিছু অবস্থা। 

এক: স্ত্রী দুই অবস্থায় নির্ধারিত মোহরের পূর্ণ মোহর পাবে।
(ক) স্ত্রীর সহবাসের পূর্বেও যদি স্বামী-স্ত্রীর কেউ মারা যায় তাহলেও স্ত্রীর তার নির্ধারিত পূর্ণ মোহর পাবে। 
(খ) স্ত্রীর সহবাসের পরে চাই তাদের সংসার টিকে থাকুক বা দুজনের মধ্যে তালাক সংঘটিত হয়ে যাক উভয় অবস্থাতেই স্ত্রী পূর্ণ মোহর পাবে। 
দুই: স্ত্রী মোহরে মিসিল তথা (তার মা-খালারা বা তার মতো মেয়েরা সাধারণত যে ধরনের মোহর পেয়ে থাকে সেও সে ধরনের মোহর) পাবে, যদি বিবাহের সময় মোহর না নির্ধারণ করে থাকে অথবা মোহরের ফাসেদ নির্ধারণ করে থাকে। মোহর নির্ধারণ না করে থাকলে স্ত্রীর সহবাসের পর কিংবা স্বামী স্ত্রীর কোনো একজন মারা গেলেও স্ত্রী মোহরে মিসিলই পাবে। 
তিন: স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিয়ে দিলে সে অর্ধেক মোহর পাবে।
চার: বিবাহের সময় মোহর নির্ধারণ না করে থাকলে স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পূর্বে যদি তাকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে স্ত্রী এ অবস্থায় মোহরে মিসিলের অর্ধেক পাবে। 
পাঁচ: স্ত্রীর কারণে যদি তালাক সংঘটিত হয় যেমন স্ত্রী খু‘লআর করতে চায় অথবা স্ত্রী ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে গেল। তখন স্ত্রী মোহর পাবে না। অনুরূপভাবে স্ত্রী যদি মোহরের দাবি ছেড়ে দেয় কিংবা স্বামীকে দান করে দেয় তাহলেও স্ত্রী মোহর পাবে না। 

Post a Comment

0 Comments