Ticker

6/recent/ticker-posts

হজ্বের কিছু মাসআলা মাসায়েল

হজ্বের  কিছু মাসআলা মাসায়েল

 

হজ্বের  কিছু মাসআলা মাসায়েল।

পোস্টের সূচিপত্র: 
১.বিধানের হিসেবে হজ্বের প্রকারভেদ। 
২.প্রথম সুযোগেই হজ্ব করা:
৩.স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করার বিধান।
৪.মাতা-পিতা অসুস্থ থাকলে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করা যাবে?
৫.ছোট বাচ্চার কারণে হজ্ব বিলম্ব করা যাবে?
৬.শাস্বকষ্ট ও ঠাণ্ডা সর্দীর কারণে হজ্ব বিলম্ব করা যাবে
৭.হাইপ্রেশার ও ডায়েবেডিস রুগীর বিধান।
৮.হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বিধান।
৯.হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ। 
১০কাফের ব্যক্তির হজ্বের বিধান।
১১.হজ্ব ফরয হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তি হজ্ব করলে। 
১২.বাচ্চা হজ্ব করলে।
১৩.অবুঝ বাচ্চা ও পাগলের পক্ষ থেকে অভিভাবকের হজ্ব। 
১৪.মতিভ্রমের হজ্বের বিধান। 
১৫.হজ্বের জন্য কি ধরনের সক্ষমতা কাঙ্খিত?
১৬.হজ্বের জন্য কি পরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে?
১৭.হজ্বের জন্য মৌলিক প্রয়োজনের জিনিস বিক্রি করতে হবে?
১৮.হজ্বে যাবে, না গৃহ-সামগ্রী খরীদ করবে?
১৯.বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে সঞ্চিত টাকা থাকলে হজ্ব করতে হবে?
২০.বিয়ে আগে না হজ্ব আগে?
২১.কি পরিমাণ ফসলি জমি থাকলে হজ্ব ফরয?
২২.হারাম মাল দ্বারা হজ্বের বিধান।
২৩.যেসব শর্ত পাওয়া গেলে হজ্ব আ    দায় করা ওয়াজিব।
২৪.হজ্বের ভিসা না পেলে কি করবে?
২৫.মহামারির আশংকায় হজ্বে বিলম্ব করা যাবে?


বিধানের হিসেবে হজ্বের প্রকারভেদ।

বিধানের হিসেবে হজ্ব পাঁচ প্রকার। 
১. ফরযে আইন: সামর্থবান ব্যক্তির উপর জীবনে একবার হজ্ব করা ফরয । -আলবাহরুল আমীক ১/৩৪৯;ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১৬;  
২. ওয়াজিব: হজ্বের মিকাত থেকে ইহরাম বিহীন অতিক্রমকারী যদি ক্ষতিপুরনে উদ্দেশ্যে হজ্ব করতে চায় তবে তা ওয়াজিব হজ্ব হবে । -আদ্দুররুল মুখতার [যাকারিয়া] ৩/৪৫২-৪৫৩; 
৩. নফল: জীবনে একের অধিক হজ্ব করা নফল ।  আদ্দুররুল মুখতার  ৩/৪৫২; ফাতহুল কাদীর ২/৪১৭
৪. হারাম: সুনাম-সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে এবং হারাম সম্পদ দিয়ে হজ্ব করা হারাম । রদ্দুল মুহতার  ৩/৫৫৩; আলবাহরুর রায়েক [যাকারিয়া] ২/৫৪৪
৫. মাকরূহ তাহরিমী: সেবা-শুশ্রুষার প্রয়োজন এমন মাতা-পিতার অনুমতি ছাড়া হজ্বে যাওয়া কিংবা পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা না করে হজ্বে যাওয়া মাকরূহ তাহরিমী । রদ্দুল মুহতার ৩/৫৫৪; ফাতহুল কাদীর ২/৪১২।

প্রথম সুযোগেই হজ্ব করা:

হজ্ব ফরয হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই হজ্ব করা ওয়াজিব। কোনো ওযর ছাড়া বিলম্ব করলে গুনাহগার হবে। তবে পরবর্তীতে হজ্ব আদায়ের পর বিলম্ব করার গুনাহ আর থাকবে না । আলবাহরুর রায়েক ২/৩১০

স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করা যাবে?

হজ্ব ফরয হওয়ার পর স্ত্রীর অসুস্থতা হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করার ওযর নয়। সুতরাং স্ত্রীর শুশ্রুষার যথাযথ ব্যবস্থা করে তাকে হজ্বে যেতে হবে ।] -  আলবাহরুল আমীক ১/৩৮৯

মাতা-পিতা অসুস্থ থাকলে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করা যাবে?

হজ্ব ফরজ হওয়ার পর মাতা-পিতা কেউ অসুস্থ হলে, তাদের খেদমতে থাকাটা যদি জরুরী হয়, তাহলে তার জন্য উচিৎ আগে মাতা পিতার খেদমত করা এবং হজ্বকে বিলম্ব করে পরবর্তীতে সুযোগ মতো হজ্ব আদয় করে নেওয়া। হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারকী : ৩৯৬; রদ্দুল মুহতার৩/৫৫৪;

ছোট বাচ্চার কারণে হজ্ব বিলম্ব করা যাবে?

মহিলার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কোলে বাচ্চা থাকায় সে হজ্ব করতে পারছে না। তাহলে  এ ক্ষেত্রে তার জন্য হজ্ব পালনে বিলম্ব করার সুযোগ আছে। -গুনিয়াতুন নাসেক : ১২;  আনওয়ারুল মানাসেক : ১৫৯

শাস্বকষ্ট ও ঠাণ্ডা সর্দীর কারণে হজ্ব বিলম্ব করা যাবে?

শাস্বকষ্টের রোগী বা ঠাণ্ডা-সর্দীতে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সময় মধ্যে হজ্ব না করে বিলম্ব করা বৈধ নয়। এমন লোক নিজের সাথে উপযুক্ত সফর সামগ্রী তথা প্রয়োজনীয় কাপড় ও ওষুধ নিয়ে যাবে । -গুনিয়াতুন নাসেক পৃ:১২;

হাইপ্রেশার ও ডায়েবেডিস রুগীর বিধান।

ডায়েবেডিস রুগী এবং এমন হাই প্রেশারের রুগী যে, সামান্য চললেই হাফিয়ে যায় তার জন্য এ অসুস্থাতার কারণে হজ্ব পালনে বিলম্ব করা বৈধ হবে না। বরং সে প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে নিয়ে যাবে।  -গুনিয়াতুন নাসেক পৃ:১২;

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বিধান।

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হলেও সুস্থ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারবে। জীবনের শেষ পর্যন্ত আরোগ্য লাভ না হলে বদলী হজ্বের অসিয়্যত করে যাওয়া তার জন্য আবশ্যক। -গুনিয়াতুন নাসেক পৃ:১১; 

হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ।

হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য সাতটি শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত পাওয়া গেলই কেবল হজ্ব ফরজ হবে। 
১.মুসলমান হওয়া। সুতরাং কোনো কাফেরের উপর হজ্ব ফরয নয়।  -গুনিয়াতুন নাসেক পৃ:১২;
২.হজ্ব ফরয হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞান থাকতে হবে। মুসলিম দেশ ও ইসলামী পরিবেশে বসবাসকারীকে শরীয়তের বিধান সম্পর্কে অবহিত ধরে নেয়া হয়। সে বাস্তবে না জানলেও তা ওযর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না। -গুনিয়াতুন নাসেক 
৩.প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। সুতরাং নাবালেগ বাচ্চা অর্থ-সম্পদের মালিক হলেও তার উপর হজ্ব ফরয নয়।  -গুনিয়াতুন নাসেক 
৪.বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। সুতরাং পাগলের উপর হজ্ব ফরয নয়।  -গুনিয়াতুন নাসেক  
৫.স্বাধীন হওয়া। সুতরাং গোলামের উপর হজ্ব ফরয নয়। সে হজ্ব করলে স্বাধীন হওয়ার পর হজ্ব ফরয হলে পুনরায় হজ্ব করতে হবে।  -গুনিয়াতুন নাসেক 
৬.হজ্বের সফরে সক্ষম হওয়া। অর্থাৎ শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে এবং বাইতুল্লায় গমনের খরচ থাকতে হবে। তা না হলে হজ্ব ফরয হবে না। -গুনিয়াতুন নাসেক 
৭.হজ্বের সময় হওয়া। অর্থাৎ হজ্বের মাস তথা, শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ্ব মাস আসা। 

কাফের ব্যক্তির হজ্বের বিধান।

কাফের অবস্থায় কেউ পরিপূর্ণভাবে হজ্ব আদায় করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইসলাম গ্রহণের পর হজ্ব ফরয হলে পুনরায় হজ্ব পালন করতে হবে।  -বাদায়েউস সানায়ে/-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/,-গুনিয়াতুন নাসেক ।

হজ্ব ফরয হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তি হজ্ব করলে।

অমুসলিম রাষ্ট্রে অনৈসলামিক পরিবেশে বড় হওয়ায় হজ্ব ফরয হওয়ার ব্যাপারে কোনো জ্ঞান ছিল না, তথাপি কোনো কারণে সে হজ্ব করেছে তাহলে তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে।  -রদ্দুল মুহতার, -গুনিয়াতুন নাসেক। 

বাচ্চা হজ্ব করলে।

বুঝমান বাচ্চা যদি হজ্বের পরিপূর্ণ বিধান মেনে হজ্ব করে তবে তার হজ্ব শুদ্ধ হবে। কিন্তু এটি তার নফল হজ্ব হবে। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর হজ্ব ফরযের কারণ পাওয়া গেলে পুনরায় ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/-বাদায়েউস সানায়ে। 

অবুঝ বাচ্চা ও পাগলের পক্ষ থেকে অভিভাবকের হজ্ব। 

অবুঝ ও পাগলের পক্ষ থেকে যদি অভিভাবক [পিতা বা অন্য কেউ] ইহরাম বাঁধে এবং এ দু’জনকে দিয়ে হজ্বের কাযকর্ম আঞ্জাম দেয় তবে তাদের পক্ষ থেকে নফল হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। এতে অভিভাবকও সওয়াব লাভ করবে।  -গুনিয়াতুন নাসেক,  -রদ্দুল মুহতার। 
কোনো পাগলের পক্ষ থেকে অভিভাবক ইহরাম বেঁধেছে এবং তাকে সাথে নিয়ে হজ্বের কাযকর্ম আঞ্জাম দিয়েছে। অতঃপর আরাফায় অবস্থানের পূর্বে সে সুস্থ হয়ে গেছে। তাহলে তাকে নতুন করে ইহরাম বেঁধে হজ্বের কার্যক্রম পালন করতে হবে। যদি নতুনভাবে ইহরাম ছাড়া হজ্ব সম্পন্ন করা হয় তবে তা ফরয হজ্ব হিসেবে আদায় হবে না। বরং নফল হয়ে যাবে। -গুনিয়াতুন নাসেক,  ফাতাওয়া হিন্দিয়া।   

মতিভ্রমের হজ্বের বিধান। 

এক ব্যক্তি পরিপূর্ণ পাগলও নয়; আবার সুস্থ্যও নয়; এমন ব্যক্তি বুঝমান বাচ্চাদের হুকুমে। তার উপর হজ্ব ফরয নয়। আদায় করলে তা নফল হবে। -গুনিয়াতুন নাসেক, রদ্দুল মুহতার, তাকরীরাতুর রাফেয়ী। 
নোট: কোনো ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান। কিন্তু শৈশবের অভ্যাস অনুযায়ী বেপরওয়া খরচ করতে অভ্যস্ত তার উপর হজ্ব ফরয হবে। সে সাধারণ বুঝমান লোকের হুকুমই হবে। তবে খরচের সব টাকা তার হাতে দিবে না। বরং কোনো আমানতদার সফরসঙ্গীর কাছে তার খরচের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তাকে হজ্বে প্রেরণ করবে।

হজ্বের জন্য কি ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন?

হজ্বে গমনকারীর অবস্থা অনুযায়ী সামর্থ্য ধর্তব্য হবে। সুতরাং মক্কায় অবস্থান কারী ব্যক্তি যদি চলতে সক্ষম হয় তবে পায়ে হাঁটাই সক্ষমতা ধরা হবে। আর যে ব্যক্তি চলতে সক্ষম নয় তাহলে বাহনের ব্যবস্থা সক্ষমতা ধরা হবে। মক্কার বাইরের লোকদের তার এলাকা থেকে সহজে যে বাহনে হজ্বের সফর করা হয়ে থাকে যেমন, বাইরোডে কার, বাস বা ট্রেন ইত্যাদি আর সমুদ্র পথে জাহাজে আসা। 
যদি সক্ষম হয় তবে সামর্থবান ধরা হবে। আর যেসমস্ত অঞ্চল থেকে প্লেনে হজ্বের সফর হয় সেখানে প্লেনে মক্কায় পৌঁছার সামর্থ থাকলে তার উপর হজ্ব ফরয হবে। 
মোটকথা, যে স্থান থেকে যে ধরনের বাহন হজ্বের সফরে ব্যবহৃত হয় তাতে সক্ষম হতে হবে। 
একই কথা পাথেয়ের ব্যাপারে। যে ব্যক্তি যে মানের খাবারে অভ্যস্ত সফর অবস্থায় সে মানের খাবারের ব্যবস্থা হলেই তার সক্ষমতা ধরা হবে। গুনিয়াতুন নাসেক, আলবাহরুর রায়েক -রদ্দুল মুহতার -ইলাউস সুনান, 

হজ্বের জন্য কি পরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে?

হজ্বে যে পরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য শর্ত তাহলো, নিজ বাসস্থান থেকে সময়োপযোগী বাহনে মক্কা মুয়াজ্জমায় আসা-যাওয়ার খরচ থাকতে হবে। এ খরচ তার মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে হতে হব। বাসস্থান, বাহন, পেশাজীবিগণের পেশার উপকরণ, আলেমের পড়ার উদ্দেশ্যে সঞ্চিত কিতাব, পরিধানের কাপড়-চোপর, ঘরে ব্যবহৃত আসবাব-পত্র এবং প্রয়োজন পরিমাণ ব্যবসার মূলধন মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।  গুনিয়াতুন নাসেক - মাজমাউল আনহার  - আলবাহরুর রায়েক -ফাতাওয়া হিন্দিয়া। 

হজ্বের জন্য মৌলিক প্রয়োজনের জিনিস বিক্রি করতে হবে?

গৃহ-সামগ্রী যথা, ফ্রিজ, এয়ারকুলার ইত্যাদি যত মূলমানের হোক না কেন তার কারেণ হজ্ব ওয়াজিব হবে না। এগুলো বিক্রি করে হজ্বে যাওয়া আবশ্যক নয়। 
হজ্ব আবশ্যক হওয়ার জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা জরুরি। গুনিয়াতুন নাসেক, মাজমাউল আনহার ,আলবাহরুর রায়েক ,ফাতাওয়া হিন্দিয়া। 

হজ্বে যাবে, না গৃহ-সামগ্রী খরীদ করবে?

কারো কাছে হজ্বে যাওয়া যায় এ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এদিকে গৃহ-সামগ্রীর জন্যও এ টাকা প্রয়োজন যেমন, জেনারেটর দরকার। এ ক্ষেত্রে হজ্বের মৌসুম চলে আসলে জেনারেটর না কিনে হজ্বে চলে যাবে। যদি হজ্বের মৌসুম দূরে থাকে তাহলে জেনারেটর কিনতে অসুবিধা নেই।  গুনিয়াতুন নাসেক, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, বাদায়েউস সানায়ে।

হজ্বের সফর অবস্থায় পরিবারের ভরণ-পোষণ।

মক্কা থেকে সফরের দূরত্বে অবস্থানকারীর উপর হজ্ব ফরয হওয়ার জন্য সফরের সময়ে পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা থাকাও জরুরি। সুতরাং পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা না থাকলে শুধু যাতায়েত খরচের ব্যবস্থা হলে হজ্ব ফরয হবে না । গুনিয়াতুন নাসেক, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, বাদায়েউস সানায়ে, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া। 

বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে সঞ্চিত টাকা থাকলে হজ্ব করতে হবে?

গৃহ নির্মাণ করতে হবে। সে উদ্দেশ্য টাকা সঞ্চয়ও করেছে। এ অবস্থায় যদি হজ্বের মাস এসে যায়। আর সে টাকা হজ্বের জন্য যথেষ্ট হয় তবে গৃহ নির্মাণ না করে হজ্বে যেতে হবে। অবশ্য হজ্বের মাস আসার আগে গৃহ নির্মাণ ইত্যাদিতে টাকা খরচ করে ফেললে আর হজ্ব ফরয হবে না । গুনিয়াতুন নাসেক, বাদায়েউস সানায়ে  ফাতাওয়া হিন্দিয়া  -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া। 

বিয়ে আগে না হজ্ব আগে?

বিয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে হজ্বের সময় হয়ে গেছে তবে আগে হজ্ব করে এসে পরে বিবাহ করবে। হজ্বের সময় আসতে দেরী থাকলে বিবাহ করাকে প্রাধান্য দিবে। একই হুকুম সন্তানের বিবাহ-শাদির ক্ষেত্রে। সন্তানের বিবাহের জন্য হজ্বে বিলম্ব করা যাবে না। গুনিয়াতুন নাসেক, আদ্দুররুল মুখতার [যাকারিয়া] ফাতাওয়া তাতারখানিয়া। 

কি পরিমাণ ফসলি জমি থাকলে হজ্ব ফরয?

যদি কেউ এ পরিমাণ সম্পদ ও ফসলি জমিনের মালিক থাকে যে, তার কিছু অংশ বিক্রি করে হজ্বের খরচ সম্পন্ন করা যাবে। আবার ফিরে এসে অবশিষ্ট জমি দ্বারা তার সংসার চলবে তবে উক্ত সম্পদ বিক্তি করে তার জন্য হজ্ব করা ফরয। আর এ পরিমাণ সম্পদ না থাকলে তার উপর হজ্ব ফরয নয় । গুনিয়াতুন নাসেক, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া,  ফাতাওয়া হিন্দিয়া। 

হারাম মাল দ্বারা হজ্ব করার বিধান। 

হারাম মাল যত বেশিই থাকুক তার কারণে হজ্ব ফরয হয় না। এ মাল দ্বারা হজ্ব করলে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। তবে সওয়াব লাভ হবে না । গুনিয়াতুন নাসেক, আলবাহরুর রায়েক।

Post a Comment

0 Comments