Ticker

6/recent/ticker-posts

হজ্বের গুরুত্ব ও ফজিলত

 

হজ্বের গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্ব এমন কিছু বিশেষ কাজ-কর্মের [আরাফার ময়দানে অবস্থান, তাওয়াফে যিয়ারত করা] নাম যা হজ্বের নিয়তে ইহরাম বেঁধে বিশেষ সময়ে [হজ্বের মৌসুমে] আদায় করা হয়

হজ্বের সূচনা

পৃথিবীতে হজ্বের সূচনা হয় সর্বপ্রথম মানব আদি পিতা হযরত আদম আ. এর সময় থেকে। তাফসীরের কিতাবের বিবরণ থেকে প্রমাণিত যে, হযরত আদম আ. হিন্দুস্তান থেকে মক্কা মুয়াজ্জামা এসে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণের দিকনির্দেশনায় বাইতুল্লাহ নির্মাণ করেন এবং হজ্বব্রতি পালন করেন। এরপর হিজাজের সফর চলতে থাকে। এর মাঝে হজ্বের উদ্দেশ্যে ছিল তিন‘শ সফর। আর ওমরার উদ্দেশ্যে ছিল সাত‘শ সফর। [হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান আ’জমী কৃত আয়ানুল হুজ্জাজ ২২-২৪]
হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যখন হযরত আদম আ. কে জমিনে অবতরণ করা হয় তখন তিনি কা’বা শরীবের সাত চক্কর তওয়াফ করেন। বর্তমান যেখানে মাকামে ইবরাহীম তার পেছনে দুই রাকাত নামায আদায় করে এ দোআ পাঠ করেন-

اللهم إنك تعلم سريرتي وعلانيتي فاقبل معذرتي، وتعلم حاجتي فأعطني سؤلي، وتعلم ما في نفسي فاغفر لي ذنبي. اللهم إني أسألك إيمانًا يباشر قلبي ويقينًا صادقًا حتى أعلم أنه لا يصيبني إلا ما كتبت لي، ورضا بما قسمت لي

হে আল্লাহ! আপনি আমার ভেতর ও বাহির সব জানেন। সুতরাং আমার ওযর কবুল করুন। আপনি আমার প্রয়োজন জানেন, সুতরাং আমার আবেদন পুরণ করুন। আপনি আমার মনে কি আছে তা জানেন, সুতরাং আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন ঈমান কামনা করি যা আমার অন্তরে বদ্ধমূল হবে। এমন সত্য বিশ্বাস কামনা করি যার দ্বারা আমার এ দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি হবে যে, আপনি আমার জন্য যা লিখে দিয়েছেন কেবল তাই আমার লাভ হতে পারে। আর আপনার বন্টনে সন্তুষ্টি কামনা করছি। 

হযরত আদম আ. যখন এ দোআ করলেন তখন আল্লাহ ওহী প্রেরণ করলেন, আমরা তোমার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছি। তোমার বংশধরের যে কেউ আমার নিকট এসে এই দোআ পাঠ করবে আমি তার গুনাহ মাফ করে দিব। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ, দোআ পর্ব ১০/১৮৩; আয়ানুল হুজ্জাজ ১/২২-২৩; হজ্ব ও যিয়ারত : ৭২]
হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত, যখন হযরত আদম আ. হজ্বের বিধি-বিধান পালন করে অবসর হন তখন আল্লাহর দরবারে আরয করলেন, হে প্রতিপালক! সকল কাজ সম্পাদনকারীই বিনিময় লাভ করে। আমাদের জন্য কি ফায়সালা করেছেন? আল্লাহ বললেন, হে আদম! আমি তো তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তোমার বংশধরের যারা আমার ঘরের নিকট এসে নিজ গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাদেকও ক্ষমা করে দিব। [আলবাহরুল আমীক ১/৭৬ সূত্র: আখবারে মক্কা]
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আদম আ. হজ্ব সম্পাদনের পর ফিরিশতাগণ তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বলল, আপনার হজ্ব মুবারক হোক। আমরা আপনার পূর্বে দুই হাজার বৎসর যাবৎ এই ইবাদত করে আসছি। আদম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তওয়াফের সময় কি দোআ পড়? ফিরিশতাগণ উত্তর দিলেন, আমরা سبحان الله والحمد لله ولا اله إلا الله والله اكبر পাঠ করি। এরপর থেকে আদম আ.ও এই দোআ বেশি বেশি পাঠ করেছেন। [আলবাহরুল আমীক ১/৭৭]

হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহর হজ্বের ঘোষণা
এরপর সাইয়্যেদুনা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আল্লাহর নির্দেশে বাইতুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করেন। [নুহ আ. এর প্লাবনে তার নিদর্শন মিটে যায়।] নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিলেন, লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দাও। ইরশাদ হচ্ছে- 

وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ 

আপনি লোকদের মাঝে হজ্বের ঘোষণা দিন। তারা তোমার নিকট আসবে পায়ে হেটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে, তারা আসবে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে। -সুরা হজ্ব : ২৭

ইবরাহীম আ. আরয করলেন, রাব্বুল আলামীন! আমার এ আওয়াজ কোথা পর্যন্ত পৌঁছবে? আল্লাহ বললেন, ঘোষণা করা তোমার দায়িত্ব। পৌঁছে দেয়া আমার কাজ। তিনি আদেশ পালনার্থে উঁচু পাহাড়ে আরোহন করে ঘোষণা দিলেন- হে লোক সকল! তোমাদের প্রতিপালক নিজ গৃহ নির্মাণ করেছেন। তোমরা এতে হজ্বের উদ্দেশ্যে আস। আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে এ ঘোষণাকে শুধু উপস্থিত সৃষ্টিকুল পর্যন্তই পৌঁছাননি; বরং অনাগত সকল মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং এ ঘোষণা শ্রবণে যে যতবার লাব্বাইক বলতে পেরেছে তার ততবার আল্লাহর ঘরে হাজিরা দেয়ার সুযোগ হবে -ইশনা আল্লাহ। 
[সারসংক্ষেপ: তাফসীরে ইবনে কাসীর : ৮৯৫; তাফসীরে কুরতুবী ১২/৩৬; আনওয়ারে মানাসিক কৃত: মুফতী শাব্বির আহমাদ কাসেমী ৯০-৯৭]

হজ্ব ফরয হওয়ার আলোচনা

হজ্ব ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রোকন। ৯ম হিজরী সনে তা ফরয করা হয়। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ 
মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামার্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্ব করা তার উপর অবশ্যকর্তব্য। আর কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। -সুরা আলে ইমরান : ৯৭
এ আয়াতের বর্ণনাশৈলী থেকেই হজ্বের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। এর সূচনাই করা হয়েছে এ কথা বলে যে, বান্দাদের উপর আল্লাহর হক হলো, তারা আল্লাহর ঘরের যিয়ারতে যাবে। তাঁর দেয়া প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে। সুতরাং যে ব্যক্তিই শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা রাখে তার দ্রুত দায়িত্বমুক্ত হওয়া জরুরি। বিলম্ব করা উচিত নয়। 

জীবনে একবারই হজ্ব ফরয
জীবনে একবার হজ্ব পালন করা ফরয। বারবার হজ্ব ফরয হয় না। অবশ্য কেউ নফল হজ্ব করতে চাইলে আলাদা কথা। হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, একদা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে লোকসকল! আল্লাহ তাআলা তোমারেদ উপর হজ্ব ফরয করেছেন। তখন আকরা ইবনে হাবেস নামের এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! প্রতিবছর কি হজ্ব ফরয? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি হ্যা বললে প্রতিবছর হজ্ব ফরয হয়ে যেত। আর এভাবে ওয়াজিব হলে তা তোমরা পালন করতে না। আর তা পালন করা তোমাদের সাধ্যেও নেই। হজ্ব একবারই ফরয। বেশি করলে নফল হবে। -মুসনাদে আহমাদ; সুনানে আবু দাউদ; তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২৫৩

সামর্থবানরা হজ্ব আদায়ে জলদী করবে
হজ্ব ফরয হলে দ্রুত দায়িত্ব মুক্ত হওয়ার ফিকির করা চাই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
হজ্বের ফরয আদায়ে জলদী কর; কেননা ভবিষ্যতে কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে তোমাদের কেউ তা জানে না। -মুসনাদে আহমাদ; তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২৫৩; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৬১

অপর এক বর্ণনায় এসেছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে হজ্ব করতে চায় সে যেন জলদী করে। -সুনানে আবু দাউদ; তাফসীরে ইবনে কাসীর : ২৫৩

বহুলোক সাধ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করে। কেউ তো সন্তানদের বিবাহকার্য শেষ করার কথা বলেও বিলম্ব করে। এটা ঠিক নয়। হজ্ব ফরয সাথে সাথে সর্বাগ্রে তা আদায়ে সচেষ্ট হওয়া চাই। পরে অন্যসব প্রয়োজন পূরণ করবে। হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো প্রয়োজনে হজ্ব পালনে বিলম্ব করবে লোকেরা হজ্ব থেকে ফিরে এলেও তার প্রয়োজন থেকে যাবে। বিলম্ব করায় কোনো লাভ হবে না। সনদের বিবেচনায় নিম্নমানের একটি হাদীসে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যেকোনো নারী বা পুরুষ আল্লাহর সন্তুষ্টিতে খরচ করতে কার্পণ্য করে তবে আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে তার এরচেয়ে কয়েক গুণ বেশি খরচ করতে হয়। যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো প্রয়োজনে হজ্ব ছেড়ে দেয় সে ঐ প্রয়োজন পূরণ করার আগেই হজ্ব থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের দেখতে পাবে। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে যেতে অসম্মতি প্রকাশ করে, সে প্রয়োজন তার মাধ্যমে পূরণ হওয়া সম্ভব হোক বা না হোক; তবে সে এমন ব্যক্তির সহযোগিতায় আক্রান্ত হবে যার কারণে তার গুনাহ হবে, প্রতিদান লাভ করবে না। 
[আসফাহানী থেকে আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৬১ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।]
অতএব সামান্য অজুহাতে হজ্ব আদায়ে তালবাহানা করা সমীচীন নয়। 

একটি বিভ্রান্তির নিরসন
বর্তমান সময়ে একটি বিষল লক্ষ করা যায় যে, কোনো লোক সম্পদের মালিক থাকে। পিতা-মাতা সামর্থ না থাকায় হজ্ব করেনি; সেক্ষেত্রে সম্পদশালী ব্যক্তি বাবা-মায়ের আগে নিজে হজ্ব করা বৈধ মনে করে না। অবশেষে হয়তো দুর্বল ও অতিশয় বৃদ্ধ মা-বাবাকে একা হজ্বে পাঠিয়ে দেয়; যাতে নিজের হজ্ব করার রাস্তা প্রসন্ন হয়। অথচ এটি সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও ভুল ধারনা। হজ্ব ফরয হওয়া শক্তি-সামর্থের সাথে যুক্ত। ছেলে সামর্থবান হলে তার উপর হজ্ব ফরয হবে। সে নির্দ্বিধায় মা-বাবার আগে হজ্ব করতে পারবে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা নেই। 
মুদ্দা কথা, মা-বাবার হজ্বের জন্য নিজের হজ্ব বিলম্ব করবে না। অবশ্য কোনো ভাগ্যবান সন্তান যদি সামর্থ অনুযায়ী খুশি খুশি মা-বাবা বা কোনো একজনকে হজ্বে নিয়ে যান এবং এ সফরে তাদের খেদমত করেন তবে তা নিশ্চিত সৌভাগ্যের বিষয়। 

সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ফরয হজ্ব আদায় না করলে কঠিন ধমকি
যে ব্যক্তি শক্তি-সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ফরয হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করে হাদীস শরীফে তার ব্যাপারে কঠিন ধমকি এসেছে। হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
যে ব্যক্তি পাথেয় ও বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার বাহন লাভ করে। এরপরও হজ্ব করে না সে ইহুদী হয়ে মারা যাক বা খ্রিস্টান হয়ে মারা যাক এতে আসে যায় না। এটা এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামার্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্ব করা তার উপর অবশ্যকর্তব্য। 
(সুনানে তিরমিযী :৮২১; মানাসেকে মোল্লা আলী কারী :৩১; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৭৭ )

অন্য বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে এসেছে-
যাকে হজ্ব থেকে সুস্পষ্ট কোনো প্রয়োজন, জালিম শাসক কিংবা নিরূপায়কারী রোগ বারণ করেনি; তাসত্ত্বেও সে হজ্ব না করে মারা যায় সে ইহুদী হয়ে মারা যাক বা খ্রিস্টান হয়ে মারা যাক তাতে আসে যায় না। হাদীসটি দাইলামী রহ. মুসনাদে ফিরদাউসে বর্ণনা করেছেন। -মানাসেকে মোল্লা আলী কারী : ৩১

এখানে ইহুদী বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যু বরণের যে ধমকি এসেছে তার মূল কারণ হলো, এ দুই ধর্মে হজ্বের ইবাদতের কোনো গুরুত্ব ছিল না। দ্বিতীয় কারণ হলো, এ দুই সম্প্রদায় আল্লাহর বিধানাবলী ও কিতাব থেকে বিমুখতা প্রদর্শন ও বিদ্রোহ করে ছিল। সুতরাং যে সামর্থবান হওয়া সত্ত্বে হজ্বে না যায় সেও যেন তাদের মতো অবাধ্যতায় লিপ্ত হলো। 

হজ্বের ফজিলত

(ক) হজ্ব ক্ষমা লাভের মাধ্যম
আল্লাহ তাআলা যেসব আমলকে বান্দার ক্ষমা লাভের মাধ্যম বানিয়েছেন তার মধ্যে হজ্বের বিশেষত্ব রয়েছে। সুতরাং হাদীস সমূহে বিষয়টি স্পুষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
 
১. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
من حجّ فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه
যে ব্যক্তি হজ্বব্রতী পালন করল। আর তাতে পাপাচারে লিপ্ত হয়নি এবং অশ্লীল কথাবার্তাও বলেনি, সে যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ট করেছে সেদিনের মতো গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে ফিরে গেল। -সহীহ বুখারী ১/২০৬; সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬৬৮
উক্ত হাদীসে ‘রফাস’ শব্দ দ্বারা যেকোনো অশ্লীল ও অনর্থক কাজ বুঝানো হয়েছে। আর ‘ফুসুক’ দ্বারা যেকোনো ধরনের গুনাহ বুঝানো হয়েছে। এসব জিনিস যদিও হজ্বের বাইরেও নিষিদ্ধ; তবে হজ্বের মধ্যে এর নিষিদ্ধতা আরো বেড়ে যায়। -আলবাহরুল আমীক ১/৫৬

২. হযরত আম্র ইবনুল আ’স রা. বলেন, আল্লাহ যখন আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করলেন তখন আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করব। তিনি হাত মোবারক বাড়িয়ে দিলেন। তখন আমি আমার হাত গুটিয়ে নিলাম। তিনি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কি হলো আমর!? আমি বললাম, আমি একটি শর্তারোপ করতে চাই। তাহলো, আমার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দিতে হবে। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন-
হে আম্র! তুমি কি জান না যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়, হিজরত পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং হজ্ব পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়।
(সহীহ মুসলিম : ১২১; সহীহ ইবনে খুযাইমা : ২৫১৫; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৮)

স্মর্তব্য, ওলামায়ে কেরামের নিকট হজ্বের মতো ইবাদত দ্বারা হুকুকুল্লাহ [আল্লাহর হক] সংক্রান্ত ছোট-খাট গুনাহ মাফ হয়ে যায়। বড় গুনাহ ক্ষমার জন্য তওবা শর্ত। আর হুকুকুল ইবাদ [বান্দার হক] সংক্রান্ত গুনাহ শুধু হজ্ব বা তওবা দ্বারাও মাফ হয় না। বরং পাওনাদের ক্ষমা করতে হবে। অতএব মানুষের হক নষ্ট করে শুধু হজ্ব করে ক্ষমা লাভ হয়ে যাবে, এমন আশা করা চরম বোকামী। [আলবাহরুল আমীক ১/৬২-৬৩, ইত্যাদি]

৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
পরপর হজ্ব ও ওমরা পালন কর। কেননা এ দু’টি দারিদ্রতা ও গুনাহসমূহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেমন হাপর স্বর্ণ ও রুপার ময়লা দূর করে দেয়। কবুল হজ্বের একমাত্র বিনিময় জান্নাত।
(সুনানে তিরমিযী; সহীহ ইবনে খুযাইমা; সহীহ ইবনে হিব্বান; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৯)

৪. হযরত আবু যর গিফারী রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- হযরত দাউদ আ. আল্লাহর নিকট আবেদন করলেন, হে বিশ্বজগতের ইলাহ! আপনার যে বান্দা আপনার ঘর যিয়ারত করবে সে কি পুরষ্কার পাবে? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন-
لكل زائر حق على المزور حقا يا داود إن لهم علي أن أعافيهم في الدنيا وأغفر لهم إذا لقيتهم
প্রত্যেক মেহমানের মেযবানের উপর হক থাকে। হে দাউদ! আমার উপর তাদের হক হলো, আমি তাদেরকে দুনিয়াতে নিরাপত্তা দান করব। আর [আখেরাতে] যখন তাদের সাথে আমার সাক্ষাত হবে তখন আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিব।  

(খ) হজ্বে মাবরুরের [কবুল হজ্ব] একমাত্র প্রতিদান জান্নাত
 হযরত জাবের রা. বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- 
الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة  قيل وما بره قال إطعام الطعام وطيب الكلام
হজ্বে মাবরুরের বিনিময় কেবল জান্নাতই হতে পারে। কেউ জিজ্ঞাসা করল? হজ্বের নেক বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, খাবার খাওয়ানো এবং উত্তম কথা। -মুসনাদে আহমাদ ৩/৩২৫; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৯
কোন হজ্বকে হজ্বে মাবরুর বলবে? এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের কয়েকটি মত রয়েছে। তা থেকে তিনটি মত নিম্নরূপ: 
১. সে হজ্বে কোনো গুনাহ না করা।
২. হজ্বটি আল্লাহর দরবারে মাকবুল হওয়া। এর প্রমাণ হলো, হজ্বের পর হাজী সাহেব নেকের কাজ বাড়িয়ে দিবেন। আর যেসব গুনাহ থেকে তওবা করেছিল তা থেকে দূরে থাকবে। 
৩. তাতে লোক দেখানো ও জশ-খ্যাতির অভিপ্রায় থাকবে না। 
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, হজ্বে মাবরুরের আলামত হলো, হজ্ব থেকে ফেরার পর দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ এবং আখেরাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। -আলবাহরুল আমীক ৫৭-৫৮

(গ) হজ্ব দুর্বলদের জিহাদ
১. সায়্যেদুনা হযরত হুসাইন রা. বলেন, একলোক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলেন, আমি স্বভাবগতভাগে ভিরু ও দুর্বল। [অর্থাৎ আমার জন্য জিহাদ করা কঠিন] রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
এমন জিহাদের দিকে আস! যাতে কাটা [জীবনের আশংকা] নেই। তাহলো, হজ্ব। 
(মু’জামে কাবীর ও আওসাত, তাবারানী রহ. কৃত; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৮)

২. উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়শা সিদ্দিকা রা. কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, জিহাদ হলো, শ্রেষ্ঠ আমল। আমরা নারীরা কি জিহাদ করব না? তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন- لكن أفضل الجهاد حج مبرور 
কিন্তু শ্রেষ্ঠতম জিহাদ হলো, হজ্বে মাবরুর। -সহীহ বুখারী : ১৫২; আততারগীব ওয়াততারগীব : ২৫৮

৩. হযরত আবু হুরাইরা রা. কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: বয়ষ্ক, দুর্বল ও নারীদের জিহাদ হলো, হজ্ব ও ওমরা। 
(সুনানে নাসাঈ; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৮)

৪. উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 
হজ্ব সকল দুর্বলদের জিহাদ। -সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯০২; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৯
বাস্তবতা হলো, হাজার সহজ-লভ্যতা সত্ত্বেও দুর্বলদের জন্য হজ্বের ইবাদতের কষ্ট বহাল রয়েছে। আর তাদের জন্য জিহাদের সওয়াবের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুসংবাদবহ। 

(ঘ) হজ্বের কারণে রিযিকে বরকত হয়
হজ্বের অন্যান্য লাভের মধ্যে অন্যতম হলো, হজ্বের ফলে আল্লাহ তাআলা রিযিকে বরকত দান করেন এবং দারিদ্রতা দূর করেন। 
১. হযরত আমের বিন আব্দুল্লাহ রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
حُججٌ تترى وعمرٌ نسقٌ تدفع ميتةَ السّوء وعيلةَ الفقر
ধারাবাহিক হজ্ব ও বারবার ওমরা করা অপমৃত্যু রোধ করে এবং দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে রক্ষা করে। -আলবাহরুল আমীক ১/৬৭

২. অপর এক বর্ণনায় এসেছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: 
হজ্ব কর; অভাবমুক্ত হয়ে যাবে। -মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক ৫/১০; আলবাহরুল আমীক ১/৬৭
৩.  এক বর্ণনায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
হাজী কখনো দরিদ্র হয় না বা পাথেয় শেষ হয় না। -আখবারে মক্কা; তাবরানী; মুসনাদে বায্যার; আলবাহরুল আমীক ১/৭২
এসব বর্ণনার ভিত্তিতে সম্পদশালীদের বারবার হজ্ব ও ওমরার প্রতি যত্নবান হওয়া চাই। কমপক্ষে পাঁচ বছরে একবার হজ্ব করা চাই। 

৪. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن عبدًا صحّحْتُ له جسمَه ووسّعتُ عليه في المعيشة تمضي عليه خمسةُ أعوام لا يفدُ إليّ لمحرومٌ
আমি যে বান্দাকে শারিরীক সুস্থতা ও আর্থিক সংগতি দান করেছি; এরপর পরও পাঁচ বছর সে আমার নিকট [বাইতুল্লাহর নিকট] উপস্থিত হয় না, সে মূলত বঞ্চিত। -সহীহ ইবনে হিব্বান ৪/২০৪; আনওয়ারে মানাসিক : ৫৬

(ঙ) হাজীদের জন্য সওয়াব ও প্রতিদানের মোশল ধারা
৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিনার মসজিদ উপস্থিত ছিলাম। তাঁর নিকট এক আনসারী ও সাকাফী গোত্রের সাহাবী আসল। সালাম দিয়ে তারা নিবেদন করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কিছু প্রশ্নের জন্য এসেছি। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা চাইলে কি প্রশ্ন করতে এসেছ তা আমি বলে দিতে পারি। আর না চাইলে আমি চুপ থাকব। তোমরা নিজেরাই প্রশ্ন করবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিই বলুন। তিনি বললেন, তোমরা এ প্রশ্ন করতে এসেছিলে। ১. ঘর থেকে বাইতুল্লাহর যিয়ারতে যাওয়ার বিধান কী? ২. তাওয়াফের পরের দুই রাকাতের সওয়াব কী? ৩. সাফা ও মারওয়ার সা’য়ীর [দৌড়ানোর] বিনিময় কী? ৪. আরাফায় অবস্থানের প্রতিদান কী? ৫. কংকর মারলে কী সওয়াব লাভ হয়? ৬. কুরবানী করার দ্বারা মানুষ কেমন সওয়াব লাভ করে? এ কথা শুনে উভয় সাহাবী বললেন, সেই সত্যার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন, আমরা এসব প্রশ্নের উদ্দেশ্যেই এসেছিলাম। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন।
فإنك إذا خرجت من بيتك تؤم البيت الحرام لا تضع ناقتك خفا ولا ترفعه إلا كتب الله لك به حسنة ومحا عنك خطيئة 
১. যখন তুমি নিজ গৃহ থেকে মসজিদে হারামের উদ্দেশে রওনা কর তখন তোমার উটনীর কদমে কদমে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য একটি নেকি লেখেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন। 
وأما ركعتاك بعد الطواف كعتق رقبة من بني إسماعيل عليه السلام
২. তওয়াফের পরে দুই রাকাত আদায় করা ইসমাঈল আ. এর বংশধরের কোনো গোলাম আযাদ করার সমান।
وأما طوافك بالصفا والمروة كعتق سبعين رقبة
৩. সাফা ও মারওয়ার দৌড়ানো সত্তরটি গোলাম আযাদ করার সমান।
وأما وقوفك عشية عرفة فإن الله يهبط إلى سماء الدنيا فيباهي بكم الملائكة يقول عبادي جاؤوني شعثا من كل فج عميق يرجون جنتي فلو كانت ذنوبكم كعدد الرمل أو كقطر المطر أو كزبد البحر لغفرتها أفيضوا عبادي مغفورا لكم ولمن شفعتم له
৪. তোমাদের আরাফার ময়দানে বিকালে অবস্থান [এর অবস্থা হলো] আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। অতঃপর তোমাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাগণের সহিত গর্ব করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমার বান্দারা এলোমেলো কেশে দূর-দুরান্ত থেকে আমার জান্নাতের আশায় আমার নিকট এসেছে। সুতরাং তোমাদের গুনাহ বালুর কনা পরিমাণ, বৃষ্টির ফোঁটার সমান কিংবা সমুদ্রের ফেনা সমপরিমাণ হলেও আমি ক্ষমা করে দিব। আমার বান্দারা! তোমরা এবং যাদের জন্য তোমরা সুপারিশ করেছ তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাও। 
وأما رميك الجمار فلك بكل حصاة رميتها تكفير كبيرة من الموبقات
৫. আর তোমাদের প্রতিটি কংকর নিক্ষেপে একটি বড় ধ্বংশাত্মক গুনাহর ক্ষমা রয়েছে। 
وأما نحرك فمذخور لك عند ربك
৬. আর তোমাদের কুরবানীর সওয়াব তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য সঞ্চিত হচ্ছে।
وأما حلاقك رأسك فلك بكل شعرة حلقتها حسنة ويمحى عنك بها خطيئة
৭. [ইহরাম খুলার সময়] তোমাদের মাথা মুুণ্ডনে তোমার মুণ্ডনকৃত প্রতিটি চুলে রয়েছে একটি নেকি এবং একটি পাপ মোচন। 
৮. আর এরপর যখন তোমরা বাইতুল্লাহর তওয়াফ কর তখন নিষ্পাপ হয়ে তওয়াফ কর। একজন ফিরিশতা এসে তোমার দু’ কাঁদে হাত রেখে বলে, তুমি ভবিষ্যতের জন্য আমল কর। তোমার অতিতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। -ইমাম তাবারানী কৃত: মু’জামে কাবীর; মুসনাদে বাজ্জার; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৬২ 


(চ) হাজ্বীগণের দোয়ার ফল
১. হযরত জাবের রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: 
হজ্ব ও ওমরা পালনকারীগণ আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের ডেকেছেন। তাতে তারা সাড়া দিয়েছেন। তারা আল্লাহর কাছে আবেদন করে। তিনি তাদেরকে প্রদান করেন।
(মুসনাদে বায্যার; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৬০)

২. প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন- 
يستجاب للحاج من حين يدخل مكة إلى أن يرجع إلى أهله وفضل أربعين
মক্কায় প্রবেশ থেকে নিয়ে বাড়ি আসা পর্যন্ত এবং আরো চল্লিশ দিন হাজ্বীদের দোয়া কবুল করা হয়ে থাকে। -আলবাহরুল আমীক ১/৬৯

৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 
خمس دعوات لا تُردُّ : (১) دعوة الحاج حتى يصدر (২) ودعوة الغازي حتى يرجع (৩) ودعوة المظلوم حتى ينتصر (৪) ودعوة المريض حتى يبرأ (৫) ودعوة الأخ لأخيه بالغيب، وأسرع هذه الدعوات إجابةً دعوة الأخ لأخيه بالغيب
পাঁচ ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ১. হাজ্বীগণের দোয়া ফিরে আসা পর্যন্ত। ২. মুজাহিদগণের দোয়া ফিরে আসা পর্যন্ত। ৩. মাজলুমের দোয়া প্রতিশোধ গ্রহণ করা পর্যন্ত। ৪. অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া আরোগ্য লাভ করা পর্যন্ত। ৫. এক মুসলমানের অনুপস্থিতিতে অপর মুসলমানের দোয়া। তবে এগুলোর মধ্যে সর্বাদিক জলদি কবুল হয়, এক ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে অপর জনের দোয়া। -আলবাহরুল আমীক ১/৭০
হযরত সাঈদ ইবনে যোবায়ের র. বলেন, বাইতুল্লাতে যে ব্যক্তি দুনিয়া বা আখেরাত যেকোনো প্রয়োজন নিয়ে যাবে তার প্রয়োজন অবশ্যই পুরা হবে। -আলবাহরুল আমীক ১/৭২

আমীরুল মু‘মিনীন হযরত আলী রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি দুনিয়া বা আখেরাতের প্রয়োজন পুরা করতে চায় সে যেন বাইতুল্লাহ শরীফে গমন করে। কেননা যে কেউ এখানে এসে আল্লাহর নিকট দুনিয়ার কোনো প্রয়োজন কামনা করে তাকে দুনিয়াতে তা প্রদান করা হয়, আর যে ব্যক্তি আখেরাতের প্রয়োজন কামনা করে তার জন্য আখেরাতে সঞ্চিত করে রাখা হয়। -আলবাহরুল আমীক ১/৭

(ছ) হাজীদের নিকট দোআর আবেদন
১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إذا لقيت الحاج فسلم عليه وصافحه ومره أن يستغفر لك قبل أن يدخل بيته فإنه مغفور له
তুমি যখন হাজীদের সাথে সাক্ষাৎ কর তখন তাকে সালাম দাও ও মুসাফা কর। আর সে বাড়িতে প্রবেশের পূর্বে তোমার জন্য ইস্তেগফারের আবেদন কর। কেননা সে ক্ষমাপ্রাপ্ত। -মুসনাদে আহমাদ ২/৬৯; আলবাহরুল আমীক ১/৬৯

২. হযরত আবু মুসা আশআরী রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
الحاج يشفع في أربعمائة من أهل بيت أو قال من أهل بيته ويخرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه
হাজী সাহেব নিজ গৃহের চল্লিশ জন সদস্যের জন্য সুপারিশ করবে। আর সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায় যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছে। -মুসনাদে বায্যার; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৫৯

৩. হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- يُغفر للحاجِّ ولمن استغفر له الحاج
হজ্ব সম্পাদনকারী এবং সে যার জন্য ক্ষমা চায় [উভয়কে] ক্ষমা করা হয়। -মুসনাদে বায্যার; ইবনে খুযাইমা, মুস্তাদরাকে হাকেম; আততারগীব ওয়াততারহীব : ২৬০

৪. এক বর্ণনায় এসেছে, ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওমরায় গমনের অনুমতি চাইলেন। তিনি অনুমতি দিলেন। যাওয়ার প্রাক্কালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
প্রিয় ভাই! আমাদেরকে তোমার দোআয় ভুলো না। ওমর রা. বলতেন, রাসুল কর্তৃক ’প্রিয় ভাই’ বলাটা আমার কাছে গোটা [বিশ্বের] সম্পদ যার উপর সূর্য্য উদিত হয় তা লাভ হওয়ার চেয়েও পসন্দনীয়। - আলবাহরুল আমীক ১/৬৯

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হজ্ব করার তাওফিক দান করুক। 









Post a Comment

0 Comments