Ticker

6/recent/ticker-posts

মুহররম ও আশুরার ফজিলত

মুহররম ও আশুরার ফজিলত

 

মুহররম ও আশুরার ফজিলত

মুহররম ইসলামী সন তথা হিজরী সনের প্রথম মাস। অত্যন্ত বরকতময় মহিমান্বিত মাস। কোরআনের ভাষায় আশহুরুল হুরুম তথা চার সম্মানিত মাসের অন্যতম মাস হলো মহররম। ইসলামের পূর্বযুগ তথা জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগেও মহররম মাস আরবদের নিকট অতি মর্যাদারপূর্ণ মাস ছিলো। তারা এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হতো না, রক্তপাত ও অন্যায় কাজ থেকে রিরত থাকতো। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ও আল্লাহ তাআলার কুদরত প্রকাশ পেয়েছে এই মাসে। কোরাআনে চার মাসকে নিষিদ্ধ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মহররম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: আসমান-জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে গণনায় মাসসমুহের সংখ্যা ১২টি। যা আল্লাহর কিতাবে (লৌহ মাহফুজে) লিপিবদ্ধ রয়েছে। তার মধ্যে চারটি মাস হারাম (নিষিদ্ধ/সম্মানের)। এটা হল সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৬) 
অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই ১২ মাস নির্ধারণ করেছেন এবং চার মাসকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এই নির্ধারিত চার মাস সম্পর্কে হযরত আবু বাকরাহ (রাযি.) বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন: বছরে ১২টি মাস রয়েছে; তন্মধ্যে ৪টি মাস হারাম (সম্মানিত মাস)। তিনটি মাস  ধারাবাহিক- তথা জিলকদ, জিলহজ ও মহররম আর অন্যটি হলো জুমাদাস সানী ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব মাস। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং:২৯৫৮)


মুহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত:

মুহররম মাস হলো হিজরী বর্ষের সূচনার মাস। কোরআন ও হাদিসে এই মাসকে ফজিলতপূর্ণ মাস হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়েছে। এই মাস আল্লাহর নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত মাস। বিশেষ করে এই মাসে অন্যায়- অপরাধ ও সকল ধরনের পাপাচার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের উপর জুলম করো না। (সূরা তাওবা: ৩৬  )
অর্থাৎ অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসগুতে অন্যায় অপরাধের পাপ বেশি গুরুতর ও মারাত্মক। মুসলমানদের উচিৎ এই মাসে সকল ধরনের  পাপাচার থেকে বিরত থাকে, তাওবা-ইস্তেগফার করা  এবং বেশি বেশি নফল ইবাদতে মশগুল থাকা। কারণ এই মাসে তাওবা কবুল হওয়া এবং মুক্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা সহ আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিক সাহায্য লাভের বহু ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। রাসূল (সা.) এ মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন বিভিন্ন হাদিস শরিফে উল্লেখ হয়েছে যে,
১ ) হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হচ্ছে- আল্লাহর মাস ‘মুহররম’-এর রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হচ্ছে- রাত্রিকালীন নামাজ। (সহিহ মুসলিম, ১১৬৩) মহররম মাস ফজিলতপূর্ণ হওয়ার কারণেই  হাদিসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই  মাসকে আল্লাহর মাস বলে উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহকে এ মাসে রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। 
২) একদা হযরত আলী  (রা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন, রমজানের পর এমন কোনো মাস আছে, যে মাসে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন সাহাবি করেছিলেন, তখন আমি তার খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। তুমি যদি রমযানের পর রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহাররমে রোযা রেখ। কেননা মুহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একদিন আছে, যেদিন আল্লাহ তায়ালা (অতীতে) অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তাওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪১
উল্লেখিত হাদিসের আলো বুঝা যায় মহররম একটি মহিমান্বিত মাস এবং ইবাদত ও তাওবা কবুল হওয়ার মাস। তাই মুসলিম উম্মাহর উচিৎ কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ফরজ ইবাদরেত পাশাপাশি নফল ইবাদত ও তাওবা ইস্তেগফার বেশি বেশি করা। এই মাসের সুন্নাত ও বিশেষ আমল হলো রোজা রাখা। তার মধ্যে আশুরার রোজার ফজিলত আরো বেশি।  

আশুরার গুরুত্ব ও ফজিলত:

মহররম মাসের দশ তারিখকে আশুরায় বলা হয়। এই দিন বহু ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী। ইসলামের পূর্বযুগ থেকেই মানুষ আশুরার দিনকে সম্মানের চোখে দেখতো। 
১) জাহিলিযুগে আরবরা এই দিন রোজা পালন করত। তখন রাসূল (সা.) ও তাদের সাথে নফল হিসেবে আশুরার রোযা রাখতেন। হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন: জাহিলীযুগের লোকেরা আশুরার রোজা পালন করত। ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন সম্ভবত কুরাইশরা ইবরাহীম (আ) এর শরীয়তের উপর ভিত্তি করে এই রোজা পালন করত।
২) হাদিস শরীফে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) মদীনায় হিজরত করে ইহুদিদেরকে আশুরার রোজা রাখতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, এটি একটি মহান দিন। এদিনে আল্লাহ তা'আলা মূসা (আ.) ও তার ক্বওমকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার লোকদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তার শুকরিয়া হিসাবে মূসা (আ.) এ দিন রোজা পালন করেন। তাই আমরাও এ দিন রোজা পালন করি। তখন রাসুল (সা.) বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরাই মূসার আ. (আদর্শ গ্রহণে) বেশী হকদার ও অধিক দাবীদার। অতঃপর তিনি রোজা রাখেন ও সবাইকে রাখতে বলেন।
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মুসলমানদের উপর আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় হিজরিতে যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হয় তখন চিরদিনের জন্য আশুরা রোজার ফরজ রহিত হয়ে যায় এবং নফল বিধানে পরিণত হয়।
৩) হযরত জাবের (রা.) সূত্রে বর্ণিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। এ বিষয়ে নিয়মিত তিনি আমাদের খবরাখবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরাখবরও নিতেন না। -সহিহ মুসলিম শরিফ: ১১২৮
৪) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যেরূপ গুরুত্ব প্রদান করতেন, আমি তাকে অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে সেরূপ গুরুত্বারোপ করতে দেখিনি। -সহিহ বুখারি:১৮৬৭
৫) আশুরার রোজার ব্যাপারে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:“আশুরার দিনের সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন”। সহিহ মুসলিম: ১৯৭৬
অর্থাৎ একদিন আশুরার রোজা রাখার কারণে আল্লাহ তায়ালা এক বছরের সগিরাহ গুনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয় এটি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে উম্মাতে মুহাম্মাদীর উপর বিশেষ দয়া। তবে এই আশায় গুনাহে লিপ্ত হওয়া মোটেও উচিৎ নয়। 
৬) উম্মুল মুমিনিন হযরত হাফসা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) চারটি কাজ কখনো পরিত্যাগ করেননি। আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, আইয়ামে বিদ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের রোজা এবং ফজর ফরজ নামাজের আগে দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ।
৭) আশুরার দিন রাসূল (সা.) এবং তার সাহাবীগণ রোজা রাখতেন এমনকি সাহাবীগণ তাদের সন্তানদেরও রোজা রাখাতেন। এই সম্পর্কে হযরত ‍রুরাইয়া বিনতে মুআউয়িজ (রাযি.) বলেন, আশুরার দিন সকালে রাসূল (সা.) আনাসারীদের গ্রামে এই ঘোষণা করে দিলেন যে, যারা আজকে রোজা রাখেনি তারা যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যারা রোজা রেখেছে তারা যেন রোজা পূর্ণ করে। বর্ণনাকারী বলেন, তার পর থেকে আমরা নিজেরা এ দিন রোজা রাখতাম এবং সন্তানদেরও রোজা রাখাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করতাম, তারা খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে এই খেলনা দিতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেতো   (সহিহ বুখারী ১৯৬০)

আশুরার রোজার নিয়ম:

মুহররমের দশ তারিখের রোজাকে আশুরার রোজা বলা হয়। শুধু দশ তারিখ রোজা না রেখে দশ তারিখের সাথে আগের দিন বা পরের দিনকে মিলিয়ে দুইটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। কারণ মদিনার ইয়াহুদিরা শুধু আশুরার দশ তারিখে রোজা রাখতো এবং ঈদ উৎযাপন করতো। মুসলমানদের আমল যেন ইয়াহুদিদের কাজের সাথে সাদৃশ্য না হয় তাই রাসূল (সা.) মহররমের ৯-১০ অথবা ১০-১১ মিলিয়ে রোজা রাখার নির্দেশ দেন। এ সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, রাসূল (সা.) যখন আশুরার দিন রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন , তখন সাহাবিরা  বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি ও নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন হিসেবে দেখে ও সম্মান করে। তখন রাসূল (সা.) বললেন, তাহলে আমরা আগামী বছর নবম দিনেও রোজা রাখব ইনশাআল্লাহ। এই হাদিস বর্ণনাকারী হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূল (সা.) এর ইন্তেকাল হয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ১১৩৮) 
উল্লেখিত হাদিসে রাসূল (সা.) মুসলিম উম্মাহকে ইয়াহুদি ও নাসারাদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমাদের উচিৎ সকল ক্ষেত্রে ইহুদি নাসারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা থেকে দূরা থাকা এবং সকল কাজে রাসূল (সা.) এর আদর্শকে অনুসরণ করা। 

 আশুরায় করণীয় ও বর্জণীয়:

করণীয়:  সকল সহিহ হাদিসে আশুরা উপলক্ষে  শুধু রোজার কথাই বর্ণনিত হয়েছে। এই দিনকে কেন্দ্র করে রোজা ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ আমলের কথা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং আশুরা উপলক্ষে বিশেষ করণীয় আমল হলো মহররমের ৯-১০ তারিখ বা ১০-১১ তারিখ রোজা রাখা। তিরমিযী শরিফের এক হাদিসে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুহাররম হলো আল্লাহ তা‘আলার (নিকট একটি মর্যাদাপূর্ণ) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন। তাই এ মাসে তাওবা ইস্তেগফারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তা ছাড়া যেহেতু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের মাস নেক কাজ বেশি বেশি করা। তবে অবশ্যই এ দিন উপলক্ষে কোন কাজ বাধ্যতামূলক মনে করা বা তা আনুষ্ঠাকিতার সহিত পালন করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এ দিন উপলক্ষে সমাজে বহু কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে সেগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ইসলামী শরিয়তে কোন কাজ বা আলম গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সেটা রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত বা আদর্শ অনুযায়ী হওয়া আবশ্যক। ইসলামে সুন্নাতের গুরুত্ব সম্পর্কে এ লিংক থেকে জেনে নিতে পারেন > সুন্নাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

বর্জণীয়: 
আশুরার দিনকে ঘিরে সমাজে অনেক নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড ও কুসংস্কারে প্রচলন রয়েছে, যেগুলোর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। সেগুলো অবশ্যই বর্জণ করা উচিৎ। যেমন: 
১. এ দিন বিলাপ করা, বুকে চাপড়ানো, পিঠে চাবুক মারাসহ নিজের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করা। 
২। হযরত ইমাম হুসাইন (রাযি.) স্মরণে কবর বানানো, যুদ্ধের পোষাকে সজ্জিত হয়ে নকল ঘোড়া বানিয়ে তা প্রদর্শন করা। 
৩। তাযিয়া বানিয়ে মিসিল বের করা। 
৪। শোক প্রকাশের জন্য বিশেষ রংয়ের পোষাক পরিধান করা। 
৫। হায় হাসান হায় হুসাইন বলে বিলাপ করা এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে খিচুড়ি পাকিয়ে তা বিতারণ করা সহ এদিনকে ঘিরে শিয়াদের আবিষ্কৃত সকল কাজ বর্জণ করা। কারণ এগুলো মোটেও ইসলাম সমর্থিত কাজ নয়।

আশুরা সম্পর্কে দুর্বল, মিথ্য ও বানোয়াট হাদিস:

আশুরাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে অনেক মিথ্যা ও বানোয়াট হাদিসের প্রচলন রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো। 
১। যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবারের জন্য প্রশস্তভাবে খরচ করবে, আল্লাহ সারা বছরই সে ব্যক্তিকে প্রশস্ত রিয্ক দান করবেন। 
হাদিসটি খুবই দুর্বল। ইমাম বাইহাকী, ইরাকী, সুয়ূতী প্রমুখ মুহাদ্দিস এ হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল, ইবনে তাইমিয়া প্রমুখ মুহাদ্দিস একে জাল ও বানোয়াট হাদিস বলেছেন।
২। যে ব্যক্তি আশুরার দিনে চোখে সুরমা ব্যবহার করবে কখনোই তার চোখ উঠবে না। 
৩। যে ব্যক্তি মহররমের মাসে রোযা রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা তাহাকে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে ৩০ দিন রোযা রাখার সমান ছুয়াব দিবেন।
৪। যে ব্যক্তি আশুরার দিন একটি রোযা রাখবে সে দশ হাজার ফেরেশতার, দশ হাজার শহীদের ও দশ হাজার হাজীর ছওয়াব পাবে। 
৫। যে ব্যক্তি আশুরার দিন কোন এয়াতিমের মাথায় হাত বুলাবে, আল্লাহ তায়ালা ঐ এতীমের মাথার প্রত্যেক চুলের পরিবর্তে তাকে বেহেশতের এক একটি ‘দরজা’ প্রদান করিবেন।
৬। যে ব্যক্তি আশুরার রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে, সে ব্যক্তি সমস্ত উম্মতে মোহাম্মদীকে  ইফতার করানোর ছওয়াব পাবে।
৭। যে ব্যক্তি আশুরার রোজা  রাখবে, সে ৬০ বছর রোজা-নামায করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। 
৮। যে ব্যক্তি ঐ তারিখে বিমার পোরছী করবে, সে সমস্ত আওলাদে আদমের বিমার-পোরছী করার সমান সাওয়াব পাবে। তার পরিবারের ফারাগতি অবস্থা হইবে। ৪০ বৎসরের গুনাহর কাফ্ফারা হয়ে যাবে।
৯। যে ব্যক্তি মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখবে, সে ব্যক্তি যেন ১০ হাজার বছর যাবত দিনের বেলা রোজা রাখলো এবং রাত্রিবেলা ইবাদতে মগ্ন থাকলো।
১০। যে ব্যক্তি মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখবে, সে ব্যক্তি যেন ১০ হাজার বছর যাবত দিনের বেলা রোজা রাখলো এবং রাত্রিবেলা ইবাদতে মগ্ন থাকলো।
১১। মহররম মাসে ইবাদতকারী ব্যক্তি  ক্বদরের রাত্রির ইবাদতের ফযীলত লাভ করবো। 
১২। যেই ব্যক্তি মহররম মাসের সম্মান করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের মধ্যে সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। 
১৩। মহররমের ১০ তারিখের রোজা হযরত আদম (আঃ) ও অন্যান্য নবীদের উপর ফরজ ছিল। এই দিনে ২০০০ নবী জন্মগ্রহণ করেছে এবং ২০০০ নবীর দোয়া কবুল করা হয়েছে। 
১৪। যে ব্যক্তি আশুরার দিন যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে অথবা আশুরার রাত্রিতে এত রাকআত সালাত অমুক অমুক সূরা এতবার পাঠ করে আদায় করবে  সে এত পুরস্কার লাভ করবে। এ ধরনের যত হাদিস প্রচলিত আছে সবগুলোই বানোয়াট ও জাল হাদিস।
১৫। আশুরার দিনে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছেন।
১৬। এ দিনে তিনি পাহাড়, পর্বত, নদনদী সৃষ্টি করেছেন।
১৭। এ দিনে তিনি কলম সৃষ্টি করেছেন।
১৮। এ দিনে তিনি লাওহে মাহফূয সৃষ্টি করেছেন।
১৯। এ দিনে তিনি আরশ সৃষ্টি করেছেন।
২০। এ দিনে তিনি আরশের উপরে সমাসীন হয়েছেন।
২১। এ দিনে তিনি জান্নাত সৃষ্টি করেছেন।
২২। এ দিনে তিনি জিবরাঈলকে (আঃ) সৃষ্টি করেছেন।
২৩। এ দিনে তিনি ফিরিশতাগণকে সৃষ্টি করেছেন।
২৪। এ দিনে তিনি আদমকে (আঃ) সৃষ্টি করেছেন।
২৫। এ দিনে তিনি আদমকে (আঃ) জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।
২৬। এ দিনে তিনি ইদরীসকে (আঃ) আসমানে উঠিয়ে নেন।
২৭। এ দিনে তিনি নূহ (আঃ)-কে নৌকা থেকে বের করেন।
২৮। এ দিনে তিনি দাউদ (আঃ) এর তাওবা কবুল করেছেন।
২৯। এ দিনে তিনি সুলাইমান (আঃ)-কে রাজত্ব প্রদান করেছেন।
৩০। এ দিনে তিনি আইয়ূব (আঃ)-এর বিপদ-মসিবত দূর করেন।
৩১। এ দিনে তিনি তাওরাত নাযিল করেন।
৩২। এ দিনে ইবরাহীম (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি খলীল উপাধি লাভ করেন।
৩৩। এ দিনে ইবরাহীম (আঃ) নমরূদের অগ্নিকুন্ডু থেকে রক্ষা পান।
৩৪। এ দিনে ইসমাঈল (আঃ) কে কুরবানী করা হয়েছিল।
৩৫। এ দিনে ইউনূস (আঃ) মাছের পেট থেকে বাহির হন।
৩৬। এ দিনে আল্লাহ ইউসূফকে (আঃ) জেলখানা থেকে বের করেন।
৩৭। এ দিনে ইয়াকুব (আঃ) দৃষ্টি শক্তি ফিরে পান।
৩৮। এ দিনে ইয়াকূব (আঃ) ইউসূফের (আঃ) সাথে সম্মিলিত হন।
৩৯। এ দিনে মুহাম্মাদ (ﷺ) জন্মগ্রহণ করেছেন।
৪০। এ দিনে কেয়ামত সংঘঠিত হবে।
৪১। এ দিন হযরত আদম (আঃ) এর তাওবা কবুল হয়েছে।
৪২। এ দিন নূহ (আঃ) এর নৌকা জূদী পর্বতের উপর থেমেছে।
৪৩। এ দিন হযরত  ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছেন। 
৪৪।  মুহার্রামের ২ তারিখে নূহ (আঃ) প্লাবন হতে মুক্তি পেয়েছেন। 
৪৫। ৩ তারিখে ইদরীসকে (আঃ) আসমানে উঠানো হয়েছে।
৪৬। ৪ তারিখে ইবরাহীমকে (আঃ) আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
হাদিসের নামে এ ধরনের অধিকাংশ কথাবার্তাই মিথ্যা, বানোয়াট ও জাল। আর কিছু আছে অত্যন্ত দুর্বল হাদিস। 

আশুরা সম্পর্কে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলি শরিফের সকল হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

আশুরা সম্পর্কে সহিহ বুখারীর সব হাদিস:

১। হযরত আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে তারা আশুরার রোজা পালন করতো। এ দিন কাবা ঘরকে গিলাফ পড়ানো হতো। অতপর যখন আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন তখন রাসূল (সা.) বললেন: যার ইচ্ছা আশুরার রোজা পালন করবে আর যার ইচ্ছা ছেড়ে দিবে। (সহিহ বুখারি: হাদিস নং:১৫৯২)

২। হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আশুরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন। পরে যখন রমযানের সিয়াম ফরজ হল তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। আবদুল্লাহ (রহঃ) এ সিয়াম পালন করতেন না, তবে মাসের যে দিনগুলোতে সাধারন সিয়াম পালন করতেন, তাঁর সাথে মিল হলে করতেন। ( ‍সহিহ বুখারী: হাদিস নং:১৮৯২)

৩। হযরত আয়েশা (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে কুরায়শগণ ‘আশুরার দিন সওম পালন করত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও পরে এ সওম পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমাযানের রোজা ফরজ হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার ইচ্ছা ‘আশুরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সওম পালন করবে না। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং: ১৮৯৩)

৪। হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ’আশুরারর রোজা পালন করত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ রোজা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় আগমন করেন তখনও এ রোজা পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের রোজা ফরয করা হল তখন ’আশুরার রোজা ছেড়ে দেয়া হল, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না। ( সহিহ বুখারী; হাদিস নং: ২০০২)

৫। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ’আশুরারর রোজা পালন করত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ রোজা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় আগমন করেন তখনও এ রোজা পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের রোজা বিধান নাযিল হলো তখন ’আশুরার রোজা ছেড়ে দেয়া হল, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না। ( সহিহ বুখারী; হাদিস নং: ৪৫০৪)

৬। হযরত ‍রুরাইয়া বিনতে মুআউয়িজ (রাযি.) বলেন, আশুরার দিন সকালে রাসূল (সা.) আনাসারীদের গ্রামে এই ঘোষণা করে দিলেন যে, যারা আজকে রোজা রাখেনি তারা যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যারা রোজা রেখেছে তারা যেন রোজা পূর্ণ করে। বর্ণনাকারী বলেন, তার পর থেকে আমরা নিজেরা এ দিন রোজা রাখতাম এবং সন্তানদেরও রোজা রাখাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করতাম, তারা খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে এই খেলনা দিতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেতো   (সহিহ বুখারী ১৯৬০)

৭। সালমা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ’আশুরার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন, যে ব্যাক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন রোযা আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং: ১৯২৪)

৮। সালেম তার বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আশুরার দিন যার ইচ্ছা সে রোজা রাখবে। (সহিহ বুখারী: হাদিস নং: ২০০০)

৯। হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন রোজার নির্দেশ দিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো তখন যার ইচ্ছা (আশুরার রোজা) রাখতো যার ইচ্ছা রাখতো না। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং:২০০১)

১০। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) হুমায়দ ইবনু ’আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, যে বছর মু’আবিয়া (রাঃ) হজ্জ করেন সে বছর আশুরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (বর্ণনাকারী) তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, হে মদিনাবাসিগণ! তোমাদের ’আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আজকে ’আশুরার দিন, আল্লাহ তা’আলা এর রোজা তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে, তবে আমি (আজ) রোজা রেখেছি। যার ইচ্ছা সে রোজা রাখুক যার ইচ্ছা সে রোজা না রাখুক। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং:২০০৩)

১১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ’ আশুরার দিনে রোযা পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এটি অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আলাইহিস সালাম) রোজা পালন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে রোজা রাখেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারী: হাদিস নং:২০০৪) (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং ১১৩০)

১২। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় আগমন করেন, তখন তিনি মদিনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন রোজা পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল ‘আশুরার দিন। তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন রোজা রেখেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (আঃ)-এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সওম পালন করেছেন এবং এদিন সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। ( সহিহ বুখারী; হাদিস নং ৪৯৮৩) (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং: ১১৩০)

১৩। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের কিছু লোক আশুরার দিনকে খুব সম্মান করত এবং সেদিন তারা রোজা রাখতো। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়াহূদীদের চেয়ে ঐ দিন সাওম পালন করার আমরা বেশি হকদার। তারপর তিনি সবাইকে সাওম পালন করার নির্দেশ করলেন। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং:৩৯৪২)

১৪। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আশূরার দিনকে ইয়াহূদীগণ ‘ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীগণকে) বললেনঃ তোমরাও এ দিনের সওম পালন কর। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং: ২০০৫)

১৫। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যেরূপ গুরুত্ব প্রদান করতেন, আমি তাকে অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে সেরূপ গুরুত্বারোপ করতে দেখিনি। -সহিহ বুখারি:১৮৬৭ 

১৬। সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে রোজা পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন রোজা পালন করে। কেননা আজকের দিন ‘আশূরার দিন। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং:২০০৭)

১৭। সালামাহ ইবনু আক্ওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন আসলাম কবীলার এক লোককে বললেনঃ তোমার কওমের মধ্যে ঘোষণা করো, কিংবা বলেছিলেনঃ লোকের মাঝে ঘোষণা করো যে, যারা আহার করেছে তারা যেন অবশিষ্ট দিন পূর্ণ করে, আর যারা আহার করেনি তারা যেন রোজা রাখে। (সহিহ বুখারী: হাদিস নং:৭২৬৫)

১৮। আবদুল্লাহ ইবনে মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর নিকট ’আশ’আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন। তখন আশ’আস (রাঃ) বললেন, আজ তো ’আশুরা। তিনি বললেন, রমাযানের (এর রোজার বিধান) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ’আশুরার রোজা পালন করা হত। যখন রমাযানের (এর রোজার বিধান) অবতীর্ণ হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এসো, তুমিও খাও। (সহিহ বুখারী হাদিস নং:৪৫০৩)

১৯। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের রোজার (আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার) পূর্বে আশুরার রোজা পালন করা হত। এরপর যখন রমাযান (সম্পর্কিত বিধান) অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ইচ্ছা করে (আশুরার) সওম পালন করবে, আর যে চায় সে সওম পালন করবে না। (সহিহ বুখারী; হাদিস নং:৪৫০২)

২০। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় এলেন, তখন ইয়াহুদিরা আশুরার দিন সাওম পালন করত। তিনি তাদের (সাওমের কারন) জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এ দিনে মূসা (আলাইহিস সালাম) ফিরাউনের উপর জয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরাই তো তাদের চাইতে মূসা (আলাইহিস সালাম) এর নিকটবর্তী। এরপর মুসলিমদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা এ দিন সিয়াম পালন কর ( সহিহ বুখারী; হাদিস নং:৪৭৩৭)

২১। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসলেন, তখন ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা পালন করত। (জিজ্ঞাসা করা হলে) তারা বলল, এদিন মূসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাদের (ইহুদিদের) চাইতে তোমরাই অধিক হকদার। সুতরাং তোমরাও রোযা পালন করো। (সহিহ ‍বুখারী; হাদিস নং:৪৬৮০)

২২। ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা আশুরার রোযা পালন করত। এরপর যখন রমযানের রোযার বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে আশুরার রোযা পালন করতে পারে আর যে চায় সে পালন না-ও করতে পারে। ( সহিহ বুখারী; হাদিস নং ৪৫০১)

আশুরা সম্পর্কে সহিহ বুখারীর সকল আরবি হাদিসের লিংক > আরবি <


আশুরা সম্পর্কে সহিহ মুসলিমের সব হাদিস:

১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারাহ হয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১৬২)

২। উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে আশুরার দিনে সিয়াম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ দিন ব্যতীত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো দিনকে এবং রমজান মাস ব্যতীত কোন মাসকে অন্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করে সিয়াম পালন করেছেন বলেও আমার জানা নেই। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১৩২)

৩। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে আশুরার দিন রোজা পালন করা হতো। এরপর যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, তখন যার ইচ্ছা সে এ দিনের রোজা পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১২৫)

৪। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়িশরা জাহিলী যুগে ’আশুরার দিন সওম পালন করত। রাসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ রোজা পালনের আদেশ দেন। অতপর যখন  রমযানের রোজা ফরয করা হলো তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে এদিন (আশুরার দিন) সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা, সে তা ছেড়ে দিবে। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:(১১২৫)

৫। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আশুরার দিন সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা রোজা পালন করত। তোমাদের মধ্যে যে এ দিনে রোজা রাখতে আগ্রহী, সে এ দিনে রোজা রাখতে পারে। আর যে অপছন্দ করে, সে ছেড়ে দিতে পারে। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং১১২৬)

৬। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আশুরার দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, জাহিলী যুগে এ দিনে লোকেরা সিয়াম সাধনা করত। যদি কেউ এদিনে সওম পালন করতে চায়, সে এ দিনে সিয়াম পালন করবে। আর কেউ যদি এদিনে সওম পালন করতে না চায়, সে সওম পালন করবে না। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তার অভ্যস্ত দিনে না হলে আশুরার সওম পালন করতেন না। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং১১২৬)

৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আশুরার দিবস সম্পর্কে কথা তোলা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা সিয়াম পালন করত। যার ইচ্ছা সে এ দিন সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে এ দিনে সওম পালন করবে না। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১২৬)

৮। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। যখন রমযানের রোজা ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা সে আশূরার দিনে সওম পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং ১১২৫)

৯। হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন আমাদেরকে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি আমাদের খোজ-খবর নিতেন। কিন্তু যখন রমযানের রোজা ফরজ করা হল তখন তিনি আমাদেরকে আদেশও করেননি, বাধাও করেননি এবং কোন খোঁজ-খবর আর নেননি। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১২৮)

১০। আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশ’আস ইবনুল কায়স আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। তখন তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! তুমি খাওয়ার জন্য কাছে এসো। তিনি বললেন, আজ কি আশুরার দিন নয়? তিনি বললেন, তুমি কি জান আশুরা দিন কী? আশ’আস বললেন, সে আবার কী? তিনি বললেন, রমযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম পালন করতেন। যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল তখন তা ছেড়ে দেয়া হল। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং১১২৭)

১১। কায়স ইবনে সাকান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশুরার দিন আশ’আস ইবনে কায়স (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আহার করছিলেন। তিনি আশ’আসকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবু মুহাম্মাদ নিকটে এসো, খানা খাও। তিনি বললেন, আমি তো রোজা রেখেছি। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, আমরা এ রোজা পালন করতাম। পরে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং:১১২৭)

১২। আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশ’আস ইবনুল কায়স (রহঃ) ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। সেটা আশুরার দিন ছিল। তখন তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এ দেখে আশ’আস (রহঃ) বললেন, হে আবদুর রহমানের পিতা! আজ তো আশুরার দিন। তিনি বললেন, রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিনে সিয়াম পালন করা হতো। কিন্তু রমযানের সিয়াম ফরজ হলে এ দিনের সিয়াম পালন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন তুমি যদি রোজা না রেখে থাক তবে খাও। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং:১১২৭)

১৩। হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন মুআবিয়াহ ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিঃ) কে মদীনায় খুতবায় বলতে শুনলেন অর্থাৎ যখন তিনি মদীনায় এসেছিলেন, তখন আশুরার দিবসে তিনি তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, এ হল আশুরা দিবস। আল্লাহ তোমাদের উপর এ দিনের সওম ফরয করেননি। তবে আমি সওম পালন করছি। তাই তোমাদের মধ্যে যে সওম পালন করতে পছন্দ করে, সে পালন করবে আর যে পছন্দ করে না, সে সওম পালন করবে না। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং:১১২৯)

১৪। হযরত আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী সম্প্রদায় আশুরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করতো এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গণ্য করতো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১৩১)

১৫। হযরত আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোজা রাখতো, তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোশাকে সুসজ্জিত করত। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন করো। (সহিহ মুসলিম: হাদিস নং:১১৩১)

১৬। হাকাম ইবনে আরাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি যমযম কূপের কাছে চাদর বিছানো অবস্থায় বসা ছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমাকে আশুরা দিনের রোজা সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে তিনি বললেন, মুহাররম! মাসের চাঁদ দেখার পর তুমি এর তারিখগুলো শুণে রাখবে। এরপর নবম তারিখে রোজা অবস্থায় তোমার যেন ভোর হয়। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সেদিন সিয়াম পালন করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করেছেন। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং;১১৩৩)

১৭। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশুরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পাননের নির্দেশ দেন তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহূদী এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতেকাল হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং:১১৩৪)

১৮। সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন আসলাম গোত্রের এক ব্যাক্তিকে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে, যে সিয়াম পালন করেনি, সে যেন সিয়াম পালন করে এবং যে আহার করেছে, সে যেন রাত পর্যন্ত তার সাওম পূর্ণ করে। (সহিহ মুসলিম; হাদিস নং:১১৩৫)

১৯। রুবায়্যি বিনত মুয়াওবিয ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন ভোরে এক ব্যাক্তিকে মদিনার পার্শ্ববর্তী আনসারী সাহাবীদের জনপদে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন এ ঘোষণা করে দেয় যে, সিয়ামরত অবস্থায় যার ভোর হয়েছে, সে যেন তার সাওম পূর্ণ করে। আর যার ইফতার অবস্থায় ভোর হয়েছে, সে যেন তার দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকে। এরপর আমরা এ দিন সাওম পালন করতাম এবং আমাদের ছোট ছোট সন্তানদেরকেও সাওম পালনে অভ্যস্ত করে তুলতাম। আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম এবং তাদের জন্য পশমের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাওয়ার জন্য কাঁদতো, তখন আমরা তাদেরকে সে খেলনা দিতাম আর এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহিহ মুসলিম;হাদিস নং:১১৩৬)

আশুরা সম্পর্কে সহিহ মুসলিমের সকল আরবি হাদিসের লিংক > আরবি <












Post a Comment

0 Comments