Ticker

6/recent/ticker-posts

মাওলানা সাদ সম্পর্কে দেওবন্দের নতুন ফাতওয়া

মাওলানা সাদ  সম্পর্কে দেওবন্দের নতুন ফাতওয়া


মাওলানা সাদ  সম্পর্কে দেওবন্দের নতুন ফাতওয়া।

ইসলামের দাওয়াতী কাজকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে দিল্লির নিজামুদ্দিন মাসজিদ থেকে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) বর্তমান তাবলীগের কাজের সূচনা করে ছিলেন। অল্প দিনেই তার এই তাবলীগের কাজ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠে তাবলিগের বিভিন্ন মারকায। তবে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযকেই তাবলিগের বিশ্ব মারকায হিসেবে গণ্য করা হয়। আর এখানের নিযুক্ত আমীরকে তাবলিগের বিশ্ব আমীর মানা হয়। বর্তমানে এই মারকাযটির প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী। তিনি তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভির প্রপৌত্র ও তবলিগ জামাতের প্রাক্তন আমীর মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভীর নাতি। সাদ কান্ধলভী ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দসহ তাবলিগের মুরব্বিদের কাছে সমালোচিত হন। সাহরানপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি উলামায়ে কেরামের বেতন নিয়ে মাদরাসায় পড়ানোকে বেশ্যার উপার্জনের সমতুল্য বলে ব্যক্ত করেন। তখন থেকে উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের মুরব্বিগণ  তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাকে সংশোধন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সেদিকে কর্ণপাত না করে লাগামহীনভাবে তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য মানুষের মাঝে প্রচার করে যাচ্ছেন এবং কোরাআন হাদিসের মানগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণার্থে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তার বিরুদ্ধে ফাতওয়া প্রদান করা হয়। ফাতওয়াটি উপমহাদেশসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের উলামায়ে কেরামগণ বিভিন্ন আলোচনা সভার মাধ্যমে মুসলিম জনসাধরণকে সাদ কান্ধলভীর আপত্তিকর ও কুফুরী বক্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলে। কিন্তু সাদ তার চিন্তুা ও মতাদর্শে অটল থেকে নতুন নতুন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সেই সূত্রধরে বিগত এক দেড় মাস পূর্বে সদরুল মুদাররিসীন হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী (হাফি.) দিল্লির নিজামুদ্দিনে গিয়ে তাকে সর্তক করেন। এদিকে সে তার মতাদর্শের উপর অটল থেকে নতুন নতুন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার ফলে একজন প্রশ্নকারীর উত্তরে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে লিখিত আকারে নতুন করে সাদ কান্ধলভীর বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোরআন হাদিস ও ইসলামী ফিকাহ এর আলোকে গতকাল রবিবার (১৮ জুন) বড়সড় একটি ফাতওয়া প্রকাশ করে। ফাতওয়ার পাতায় দেখা যায়  এক ব্যক্তি  মাদরাসায় পড়িয়ে বেতন নেয়া সম্পর্কে মাওলানা সা’দের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফাতওয়া জানতে চেয়েছেন। তিনি তার প্রশ্নে লেখেন, বরাবর মওলানা মুফতি আবুল কাসিম নোমানি, ও মুফতি আজম দারুল উলূম দেওবন্দ, আপনার উপর আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। আপনাদের সমীপে আরয এই যে, যেহেতু তাবলিগ জামাতের একজন পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সাদ কান্ধলভীর) পক্ষ থেকে মূর্খতাপূর্ণ  কথা দিনদিন বেড়েই চলেছে, তাই আমরা আপনাদের কাছে রমজানের আগে আলেমদের বৈঠকের ভুপাল জামাতের ২০২২ সালের বক্তব্য পেশ করেছিলাম। আপনারা তখন মৌখিকভাবে সমাধান দিলেও আমরা লিখিত আকারে কোনো সমাধান পাইনি। এখন ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাওলানা সাদের একটি নতুন বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। তার এই বক্তব্যটি মাদরাসার আলেম ও পরিচালকদের চরমভাবে বিভ্রান্ত করেছে। আমরা হতবাক যে, একজন ব্যক্তি সমগ্র আলেম-মাশায়েখদের চ্যালেঞ্জ করে বলছে: আলেম ও দ্বীনের খাদেমগণ নিজেরা ব্যবসা বাণিজ্য করে  নিজেদের বেতন ভাতা ও ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে নিবে। তারা যদি দীনের কাজ করে টাকা নেয়, অর্থাৎ মাদরাসায় পড়িয়ে, ইমামতি করে টাকা নেয় তাহলে সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ হবে। তার এ ধরণের অবান্তর বক্তব্যের দ্বারা সাধারণ মানুষের কাছে দীনি ইলম শিক্ষা ও শেখানেওয়ালাদের বিষয়ে বিভান্তি ছড়াচ্ছে। প্রশ্নকারী সাদ কান্ধলবীর বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রায় আট পৃষ্ঠাব্যাপী লিখিত প্রশ্ন করেছেন। আর দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রায় আঠারো পৃষ্ঠা উত্তর সম্বলিত ফাতওয়া প্রকাশ পেয়েছে।


Post a Comment

0 Comments