Ticker

6/recent/ticker-posts

ইস্তিঞ্জার সুন্নাত ও আদবসমূহ

ইস্তিঞ্জার সুন্নাত ও আদবসমূহ


ইস্তিঞ্জার সুন্নাত ও আদবসমূহ

১. টয়লেটে প্রবেশ করার সময় শরীর খোলামেলা না রেখে শরীরে কোন কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে প্রবেশ করা। ( ফাতওয়ায়ে আলমগীর;৫০) 
কারণ হাদিস শরিফে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম টয়লেটে প্রবেশ করার সময় চাদর পরিধান করে মাথা ঢেকে প্রবেশ করতেন। 
২. খালি পায়ে টয়লেটে প্রবেশ না করা। বরং জুতা ইত্যাদি পরিধান করে টয়লেটে প্রবেশ করা। (কানযুল উম্মাল) 
৩. টয়লেটে প্রবেশ করার পূর্বে তিনটি মাটির ঢিলা/ পাথর কিংবা টয়লেট পেপার নিয়ে যাওয়া। (তিরমিযী ১/১০)
৪. তিনটি ঢিলা ব্যবহার করা। তিনটি ব্যবহার করা সুন্নাত, প্রয়োজন হলে বেশিও ব্যবহার করতে পারবে। (আবু দাউদ:১/৩০)
৫. টয়লেটে প্রবেশ করার পূর্বে এই দোয়াটি পাঠ করা: 
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবাইস)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় পার্থনা করছি নাপাকি ও অনিষ্টকারী শয়তান থেকে। (সহি মুসলিম:১/২৮৩)
কারণ সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হযতর আনাস (রাযি.) বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইস্তিঞ্জার জায়গায় প্রবেশ করার পূর্বে এই দোয়াটি পাঠ করতেন।
৬. টয়লেটে পাম পা দিয়ে প্রবেশ করা। (মারাক্বিউল ফালাহ: ৫১)
৭. ইস্তিঞ্জা করার জন্য বসার পূর্বে ছতর খোলা। (তিরমিযী শরিফ ১/১০)
৮. বসে পেশাব পায়খানা করা। দাঁড়িয়ে না করা (তিরমিযী ১/৯)
৯. কেবলার দিকে মুখ বা পিঠ করে পেশাব পায়খানা না করা। (তিরমিযী ১/৮) 
১০. ইস্তিঞ্জায় (টয়লেটে) প্রবেশ করলে লজ্জাস্থানকে ডান হাত দ্বারা স্পর্শ না করা। (তিরমিযী১/১০) 
১১. টয়লেট থেকে ডান পা দিয়ে বের হওয়া। (মারাক্বিউল ফালাহ:৪৩) 
১২. পেশাব পায়খানা থেকে বের হয়ে এই দোয়া পড়া:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
(উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানি)
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তুকে দূরীভূত করেছেন এবং আমাকে প্রশান্তি দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ:২৬) 
১৩. পায়খানা শেষ করে বাহির হলে বাম হাত মাটিতে ভালোভাবে ঘষা। বা সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। (ইবনে মাজাহ: ৩০) 

যে সকল জিনিস নিয়ে ইস্তিঞ্জায় (পেশাব পায়খানায়) যাওয়া নিষেধ: 

১. এমন কোনো আংটি বা কাগজের টুকরা যেখানে আল্লাহর নাম লেখা আছে এবং সেটা দৃশ্যমান।
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম।
৩. কোনো ফেরেশতার নাম।
৪. কোরআন শরীফের আয়াত লেখিত কোনো জিনিস।
৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস লেখিত কোনো জিনিস। 
৬. কোরআন বা হাদিসে বর্ণিত কোনো দোয়া-কালাম লেখিত আছে এমন কোনো জিনিস। 

যে সকল স্থানে ইস্তিঞ্জা করা নিষেধ:

১. রাস্তায়। 
২. ফলদার বা এমন ছায়াদার কোনো বৃক্ষের নিচে যেখানে বসে মানুষ আরাম করে বা বিশ্রাম নেয়।
৩. গর্তের ভিতরে। কারণ গর্তের মধ্যে কোনো প্রাণী থাকলে তার ক্ষতি হবে। অথবা গর্তে কোনো ক্ষতিকর প্রাণী যেমন- সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি থাকলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পেশাবকারীকে দংশন করতে পারে। গর্তে কোনো জিনও থাকতে পারে। আর সে জিন পেশাবকারীর ক্ষতি করার আশঙ্কা আছে। যেমন হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে: হযরত সা‘দ বিন উবাদা (রাযি.) এক গর্তে পেশাব করেছিলেন। অতপর ঐ গর্তে অবস্থানরত জিন তাকে মেরে ফেলল। 
৪. পানির ঘাটে। 
৫. কবরস্থানে। 
৬. গোসলখানায়। 
৭. মসজিদের আঙ্গিনায় বা ঈদগাহে। 
৮. এমন শক্ত জায়গায় পেশাব না করা যেখান থেকে পেশাবের ছিটা শরীরে আসার সম্ভাবনা থাকে।
৯. বাতাসের দিকে মুখ করে পেশাব না করা। 
১০. নিচু স্থানে বসে উচু স্থানে। 
১১. ওযুর ছাড়া পানিতে।
১২. খোলামেলা স্থানে।

ইস্তিঞ্জায় গিয়ে যেসব কাজ করা নিষেধ: 

১.কথা বলা। 
২. খাওয়া বা পান করা। 
৩. জবান দ্বারা যিকির করা।
৪. কোরআন তেলাওয়াত করা। 
৫. সালাম দেওয়া। 
৬. সালাদের উত্তর দেওয়া। 
৭. মেসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করা। 
৮. কোনো কিছু লেখা বা পড়া।

যেসব জিনিস দ্বারা ঢিলা ব্যবহার করা নিষেধ:

১. হাড্ডি। 
২. গোবর। কারণ এগুলো জিনের খাবার। 
৩. খাদ্য জাতীয় জিনিস। 
৪. কয়লা। 
৫. ধারালো কোনো জিনিস। যেমন কাচঁ। 
৬. কাগজ। 
৭. গাছের কাঁচা পাতা। 
৮. জমজমের পানি। 
৯. নাপাক কোনো জিনিস দ্বারা। 

ঢিলা ব্যবহারের নিয়ম।

যদি অণ্ডকোষ ঝুলে থাকে তাহলে প্রথম ঢিলা সামনের দিক থেকে পিছনের দিকে টানা, দ্বিতীয়টি পিছনের দিক থেকে সামনের দিকে, তৃতীয়টি সামনের দিক থেকে পিছনের দিকে টানা। আর যদি অণ্ডকোষ ঝুলে না থাকে তাহলে বিপরীত পন্থায় ঢিলা ব্যবাহর করা। 

Post a Comment

0 Comments