Ticker

6/recent/ticker-posts

এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ডের শরয়ী বিধান

 

এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ডের শরয়ী বিধান

এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ডের শরয়ী বিধান।

সাম্প্রতিক কাগজি-নোট আবিষ্কারের আগে বিত্তবানদের ধাতব মুদ্রার ওজন বহন ও সংরক্ষণের বিড়াম্বনার ইতিহাস কারো অজানা নয়। তারও আগে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে প্রচলিত ছিল খাদ্যদ্রব্য। কালের আবর্তে তা পরিণত হয়েছে আধুনিক যুগের কাগজি মুদ্রায়। তবে আজকের সহজপ্রিয় মানুষ এই নোটের সামান্য বোঝাও আর বইতে রাজি নয়, এজন্য আরো সহজ থেকে সহজ কিছু উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

টাকার সংখ্যা খুব বেশি হলে তা স্থানান্তর ও বহন করা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত নিরাপত্তা নিয়ে শংকা সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা নিরসনের লক্ষে উদ্ভব ঘটেছে বর্তমান সময়ের প্লাস্টিক মানি তথা ক্রেডিট, ডেবিট, প্রিপেইড কার্ডের। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও এসব কার্ডের ব্যাপক প্রচলন ঘটেছে। অবশ্য এসকল কার্ডের চেয়েও আরো সহজ পদ্ধতির প্রাক্টিস হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। যেমন, আপনার আঙ্গুলের নখের মধ্যে এক ধরনের সিল লাগিয়ে দিবে। দোকানে যাবেন, বাজার করবেন, আঙ্গুল দেখাবেন, দোকানি ঐ আঙ্গুলকে স্ক্যান করে, সেখান থেকে মূল্য আদায় করে নিবে। বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক প্রচলন এখনও ঘটেনি। কিন্তু প্রাক্টিস করা হচ্ছে। জাপানে এমন পদ্ধতি অনেক আগেই চালু হয়েছে। এই প্রকল্প জনপ্রিয়তা পেলে সেটা আমাদের দেশেও আসবে। তখন আর আলাদা কার্ড নিয়ে বেড়াতে হবে না। বরং নিজের আঙ্গুল নিয়ে গেলেই চলবে। এক সময় এটিএমকে আঙ্গুল দেখালে হয়তো এটিএম টাকা দিবে। 

যাইহোক আমরা সেদিকে যাব না। আমার এখানে চলমান সময়ে প্রচলিত ব্যাংক কার্ডসমূহ তথা ক্রেডিট, ডেবিট, প্রিপেইড ও এটিএম কার্ডের শরয়ী বিধান নিয়ে আলোচনা করব। কারণ এসব ইলেক্ট্রিক মানি বর্তমানে যথেষ্ট ব্যাপকাতা লাভ করেছে। দিনদিন তা মানুষের জীবনে অনুষঙ্গে পরিণত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা প্রথমে কার্ডগুলোর পরিচয় ও বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করব। যাতে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি বুঝা সহজ হয়।


কার্ডের লাইসেন্সদাতা সংস্থা ও ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান।

এসব কার্ড ইস্যু করে ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী যতগুলো ব্যাংক কার্ড ইস্যু করে তারা সাধারণত তিনটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধকারী সংস্থার কোনো একটির লাইসেন্স নিয়ে কার্ড চালু করে। নতুবা চালু করতে পারে না। উক্ত সংস্থাগুলো হলো: ভিসা,মাস্টার ও আমরিকান এক্সপ্রেস। এর মাঝে প্রথম দুটি আমাদের দেশে বেশি প্রসিদ্ধ। এর বাইরেও কিছু সংস্থা রয়েছে। তবে সেগুলো ব্যাপক নয়। এসব সংস্থা ক্লাইন্টের পক্ষ হয়ে পণ্য বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল্য পরিশোধ করে। এ জন্যই কার্ডের গায়ে এই আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংস্থাগুলোর লোগো লাগানো থাকে। যেমন সিমের মধ্যে নির্দিষ্ট কোম্পানির লোগো লাগানো থাকে। 

এটিএম কার্ড (ATM Card)

ব্যাংকিং কার্ডের মাঝে একটি বহুল প্রচলিক কার্ড হলো, এটিএম কার্ড। এটিএম বুথের কল্যাণে এই কার্ডটির সাথে আজ প্রায় সকলেই পরিচিত। এখন রাস্তা-ঘাটে অসংখ্য এটিএম বুথ রয়েছে। ATM এর পূর্ণরূপ হলো, [ Autimted Teller Machine] অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় লেনদেনকারী যন্ত্র। এই মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে প্রত্যেকের পিন নাম্বার [পার্সোনাল আইডি নাম্বার] দিয়ে টাকার এমাউন্ট চেপে দিলেই টাকা বের হয়ে আসে। ব্যাংকে একাউন্টধারী ব্যক্তি এটিএম কার্ড দিয়ে বছরের যে কোনো দিন যে কোনো সময়(৩৬৫ দিনের ২৪ ঘণ্টা) নির্ধারিত বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে তার একাউন্টে ওই পরিমাণ টাকা থাকা আবশ্যক। আবার এ কার্ড দ্বারা বর্তমানে অনেক মার্কেট, দোকান বা সেবা প্রতিষ্ঠানের বিলও পরিশোধ করা যায়। 

যেভাবে কাজ করে এটিএম মেশিন:

উক্ত মেশিনে কার্ড প্রবেশ করিয়ে পিন নাম্বার চাপার পর মূলত পিন নাম্বার আইডেন্টিটি চেক হয়। তারপর তার রিকুয়েস্ট ব্যাংকের এটিএম এর সুইচে যায়। অতপর সেখান থেকে ভেরিফাই হলে একাউন্ট এর টাকা উত্তোলন করা যায়। এই প্রক্রিয়া মাত্র কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যেই সম্পন্ন হয়। আর গ্রাহক টাকা পায়।

ডেবিট কার্ড ( Debit Card)

এই কার্ড বাহকের পূর্ব থেকেই ঐ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকে একাউন্ট বিদ্যমান থাকে যে প্রতিষ্ঠান থেকে সে কার্ড গ্রহণ করে। কার্ড হোল্ডার বা কার্ড বাহক যখনই উক্ত কার্ড ব্যবহার করে, প্রতিষ্ঠান তার একাউন্টের বিদ্যমান অর্থ থেকে তা পরিশোধ করে দেয়। এতে কার্ড হোল্ডারের ধার-কার্জ বা ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকে না। রবং সে উক্ত কার্ড ততক্ষণ ব্যবহার করতে পারে, যতক্ষণ তার একাউন্টে অর্থ বিদ্যমান থাকে। প্রতিষ্ঠান কার্ড ইস্যুকরার কারণে তার থেকে বাৎসরিক নির্দিষ্ট ফি [সার্ভিস চার্জ] গ্রহণ করে থাকে। মূলত এটিএম কার্ডেরই সেবার পরিধি বিস্তৃত হয়ে তা এখন ডেবিট কার্ডে পরিণত হয়েছে। সাধারণত এটিএম কার্ড দিয়ে শুধু টাকা উঠানো যায়। কিন্তু ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায়, বিভিন্ন বিল তথা গ্যাস বিল, কারেন্ট বিল ইত্যাদি পরিশোধ করা যায়। অনেক ইন্সুরেন্স কোম্পানির প্রিমিয়াম আদায় করা যায়। আবার কোনো কোনো স্কুলের ফিও আদায় করা যায়। 

কার্ড দিয়ে টাকা পরিশোধের পদ্ধতি। 

এটা স্পষ্ট কথা যে, কার্ডের ভেতরে কোনো টাকা থাকে না। দোকানদারের কাছে এক ধরনের  pos [পোস] মেশিন থাকে। সে মেশিনের মধ্যে কার্ড ঢুকিয়ে টান দিলেই কার্ড ইস্যুকারী সংস্থার সাথে দোকানের অনলাইন সংযোগ তৈরি হয়। তখন যা যা যাচাই করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেশিন তা যাচাই করে ফেলে,যেমন এই কার্ডটি বৈধ কিনা? কার্ডের মেয়াদ আছে কিনা? ইত্যাদি। অতপর যত টাকা আদায় করবে তার পরিমাণ মেশিনে চেপে দিলেই ( সে পরিমাণ ব্যালেন্স থাকলে) কার্ডধারীর একাউন্ট থেকে টাকাটা বের হয়ে দোকানির একাউন্টে জমা হয়ে যায়, এটা এক ধরণের নগদ বেচাকেনার মতো। তবে পুরোপুরি  নগদ নয়। যেহেতু দোকানি ক্যাশে টাকা পায় না।

অন্য ব্যাংকের Pos (পোস) মেশিন ব্যবহার করা।

ধরুন! আপনার একাউন্ট ইসলামী ব্যাংকের, আর কার্ড দিয়ে যে দোকান থেকে বাজার করছেন সেখানে ইসলামী ব্যাংকের পোস মেশিন নেই,  তাদের কাছে আছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মেশিন। অসুবিধা নেই, সেই মেশিনেও কার্ডটা ঢুকিয়ে পাঞ্চ করলে ডাচ বাংলা ব্যাংক টাকা পরিশোধ করে দিবে। অতপর ইসলামী ব্যাংক থেকে তারা টাকা আদায় করে নিবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যাচাই-বাছাই করতে একটু সময় লাগে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সময় লাগে না। ইন্টারনেটের গতি ভালো থাকলে সর্বোচ্চ দুই- এক সেকেন্ড সময় লাগে। এখানেও কিন্তু টাকাটা বাকি পড়ে না। 

প্রিপেইড কার্ড

ডেবিট কার্ডের মতোই আরেকটি কার্ড হলো প্রিপেইড কার্ড। যেমন, ধরুন! মোবাইলের সিমটাই একটা কার্ড। সিম ব্যবহার করতে চাইলে যেমন আগে রিচার্জ করতে হয়। আর যত টাকা রিচার্জ করবেন তত টাকারই কথা বলতে পারেন। তদ্রুপ প্রিপেইড কার্ডও এমন। ব্যাংকের  নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে যত টাকা জমা করবেন, এই কার্ড দেখিয়ে তত টাকারই বাজার করতে পারবেন। 
এই কার্ড দুই ধরনের হয়: এক লোকাল। এর দ্বারা শুধু দেশের অভ্যন্তরে কেনাকাটা করা যায়। দুই: আন্তর্জাতিক। এর দ্বারা দেশে বিদেশে সব জায়গায় বাজার করা যায়। ব্যাংক থেকে হাজী সাহেবদের প্রিপেইড কার্ড সাথে নিতে খুব বেশি উদ্বুদ্ধ করে। এজন্য অনেকে একে হজ্জ কার্ডও বলে থাকে।

এটিএম, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের শরয়ী মূল্যয়ন।

বার্ষিক ফি: এ ধরনের কার্ড ব্যবহার করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো অসুবিধা নেই। এর দ্বারা ক্রয় বিক্রয় করা বৈধ। কেননা এতে না ঋণের সুযোগ আছে, না সুদের সুযোগ আছে। বাকি কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক কার্ডমেম্বার থেকে যে ‘বার্ষিক ফি’ গ্রহণ করে থাকে তা মূলত তারা যে সার্ভিস প্রদান করে থাকে তার বিনিয়ম হিসেবেই নিয়ে থাকে। এটা এক ধরনের ওকালাত বা ইজারাহ। সুতরাং বার্ষিক ফি প্রদানের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবাহার করা জায়েয। তবে কার্ড হোল্ডারের দায়িত্ব হল উক্ত কার্ড যেন অনৈতিক ও অনৈসলামিক কোনো কাজে ব্যবহার না করে।
 
কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া: যে সকল বিপণী বিতান বা সেবা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা সুযোগ থাকে, তাদের অধিকাংশই নগদ বিক্রয় এবং কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি একই মূল্যে করে থাকে। তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কার্ডের বিক্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২-৩% চার্জ করে থাকে।

শরয়ী মূল্যায়ন: এ অতিরিক্ত অংশের ব্যাপারে বর্তমান সময়ের ফকীহগণ গবেষণা করে একাধিক মত প্রদান করেছেন। তাদের অধিকাংশের মত হল অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কারণে এই বেচাকেনা নাজায়েয হবে না এবং এটি সুদের আওতায়ও পড়বে না। কারণ এখানে কার্ডহোল্ডার তার কাজ থেকে কোনো ঋণ নেয়নি, যার সুদ দোকানি তার কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারে। আসলে এই অতিরিক্ত টাকা পণ্যমূল্যেরই অংশ। যেমনিভাবে বাকিতে কোনো জিনিস কিনতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মূল্য বাড়িয়ে নেয়া হয়, তেমনি এ ক্ষেত্রেও কার্ডের মাধ্যমে খরিদের কারণে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। সুতরাং এটি নাজায়েয নয়। 

ডিসকাউন্ট: কোনো কোনো সময় কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে ৫% বা ১০% বা এর কমবেশি ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। বিশেষত বিলাস জাতীয় মার্কেট, নামী-দামী হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কাপড়ের দোকান, এমনসব মার্কেট যেখানে সাধারণত বিত্তবানরা কেনাকাটা করে এবং লাভের পরিমাণ বেশি থাকে, সেখানে কার্ড দিয়ে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সারা বছর শতকারা ১০% ২০% ৩০% পর্যন্ত ছাড় থাকে। কার্ডধারীর মোবাইলে ওরা নিয়মিত ম্যাসেজ দিতে থাকে।

শরয়ী মূল্যায়ন: এটি মূলত করা হয় কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মার্চেন্টর [দোকানের] চুক্তির মাধ্যমে। যেন এ উসিলায় কার্ড ব্যবহারকারীরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি বেশি কেনাকাটা করতে আগ্রহী হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ ডিসকাউন্ট প্রদানে কোন আপত্তি নেই।

ক্যাশব্যাক: কার্ড বাজারজাত করার জন্য এবং কার্ডের প্রচলন বৃদ্ধি করার জন্য ব্যাংক  কিংবা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংস্থা - ভিসা, মাস্টার ও আমরিকান এক্সপ্রেস ঘোষণা করে যে, অমুক অমুক জায়গা থেকে আমাদেরে কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করলে ৫% ক্যাশব্যাক প্রযোজ্য বা ৫% ছাড় প্রযোজ্য। অর্থাৎ কার্ড দিয়ে একশত টাকার বাজার করলে কার্ডধারী ক্রেতার একাউন্টে পাঁচ টাকা ফিরিয়ে দিবে। 

শরয়ী মূল্যায়ন: কার্ড কেন্দ্রিক সুবিধা তথা ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্টের মাসআলা জানার জন্য এখানে আরেকটি বিষয় জেনে নেয়া দরকার। তা হলো, তারা ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট দিচ্ছে কোত্থেকে?
এ প্রশ্নের জবাব হলো, তারা মূলত দোকানী থেকে নিয়েই এই সুবিধা দিয়ে থাকে। তারা দোকানির কাছে মার্কেটিং করতে যেয়ে বলে, আমরা আপনাদের নামে বিজ্ঞাপন করতে থাকবো , প্রচার করতে থাকেবো, আমাদের মাধ্যমগুলোর কাছে আপনাদের দোকানপাট  পরিচয় করিয়ে দিবো। তবে আপনাদের একটা কাজ করত হবে। তাহলো, যে পণ্যে আপনারা ২০% লাভ করেন কিছু দিন আমাদের জন্য ১০% ছেড়ে দিবেন। কমিশন আকারে সাধারণত যে ১-৩% পার্সেন্ট দেন, কিছু দিন আমাদের দিবেন ১০% পার্সেন্ট। তাহলে এখন দোকানে যে পরিমাণ কাস্টমার আসে আর যে পরিমাণ সেল হয় তখন আপনাদের দোকানে কাস্টমার আরো বেশি আসবে এবং আরো কয়েক গুণ বেশি সেল হবে। তখন দোকানদার দেখে, আমি যদি ঐ লোকের জন্য ১০% ছেড়েও দিই তাকে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা সেল বৃদ্ধি পেলে তার চেয়ে বেশি লাভ হবে। তাই দোকানিরা এতে রাজি হয়ে যায়। 
এদিকে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাপক আকারে প্রচারণা চালায়। তখন মানুষ নতুনভাবে কার্ড নেওয়া শুরু করে। কারণ কারণ অনেকে দেখে অমুক বাজার থেকে তো আমার বাজার করতেই হয়। তাই কার্ড নিয়ে নিই। কেননা কার্ড দিয়ে বাজার করলে আমি ডিসকাউন্ট বা ক্যাশব্যাক পাব। 
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক এই দোকান থেকে নিচ্ছে ১০% পার্সেন্ট। আর ক্যাশব্যাক আকারে কার্ডধারীকে দিচ্ছে ৫% পার্সেন্ট। আরো ৫% পার্সেন্ট তার থেকে যাচ্ছে। 
এখান থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে ক্যাশব্যাক বাহ্যত ব্যাংক দিচ্ছে দেখা গেলেও বাস্তবে তা দিচ্ছে দোকানদার। তাই শরয়ী দৃষ্টিতে এটি ‘হাত্তুস সামান’ তথা মূল্য কমিয়ে দেয়া হিসেবে গণ্য হবে। আর বেচাকেনার ক্ষেত্রে কারো সাথে দাম-দর চূড়ান্ত হয়ে গেলে বিক্রেতা চাইলে মূল্য আরো কমিয়ে দিতে পারে। একইভাবে ক্রেতা চাইলেও মূল্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ফিকহে ইসলামীর দৃষ্টিতে ক্যাশব্যাক বিক্রেতা কর্তৃক মূল্য কমিয়ে দেয়ার আওতায় পড়ার কারণে তা জায়েয।

অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবাহারে অতিরিক্ত চার্জের বিধান।

সেবার আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিএম কার্ডের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। আগে যে ব্যাংকের কার্ড থাকত শুধু ঐ ব্যাংকের এটিএম কিংব শুধু ঐ ব্যাংক থেকেই টাকা উঠানো যেত। কিন্তু এখন কার্ডধারী যে কোনো ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা উঠাতে পারে। একইভাবে সরাসরি অন্য ব্যাংক থেকেও টাকা উঠাতে পারে। এক্ষেত্রে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে,নিজ ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা উঠালে ট্রানজেকশনে কোনো চার্জ লাগে না। কিন্তু অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে উঠালে প্রতি ট্রানজেকশনে কমপক্ষে ১০ টাকা চার্জ দিতে হয়। কোনো কোনো ব্যাংকএকেক ট্রানজেকশনের উপর ২৫/৫০/৬০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।
 
শরয়ী মূল্যায়ন: এখানে কার্ডধারীর ব্যাংক সরাসরি তাকে সার্ভিস দিচ্ছে না। বরং অন্য ব্যাংকের পোস মেশিন বা এটিএম ব্যবহার করে সার্ভিস দিচ্ছে। আর অন্য ব্যাংক যেহেতু নিজস্ব আওয়ার বাহিরে টাকা উঠানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা এক ধরনের ইজারা। তাই সার্ভিস চার্জ হিসাবে তাদের জন্য ফি নেয়া বৈধ।

ব্যাংক কর্তৃক দোকন থেকে কমিশন গ্রহণ।

কার্ডধারী ব্যক্তি যখন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কার্ড দিয়ে বাজার করে তখন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দোকনি থেকে ১-৩% পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করে। কেউ কার্ড দিয়ে দশ হাজার টাকার বাজার করলে ব্যাংক ৩০০ টাকা পাবে। আর দোকানির থাকবে ৯৭০০ টাকা। ব্যাংক এই ৩০০ টাকা আরো বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করে। যেমন, ভিসা, মাস্টার বা আমরিকান এক্সপ্রেস যাদের লাইসেন্স নিয়ে ব্যাংক কার্ড ইস্যু  করেছে তাদেরকেও এক ভাগ দেয়। এখানে যদি অন্য ব্যাংকের পোস মেশিন ব্যবহৃত হয়ে থাকে তাহলে তারাও কিছু পায়। বার্ষিক ফি এর পাশাপাশি এই কমিশন ব্যাংকের আরেকটি লাভ।

ক্রেডিট কার্ড ( Credit Card)

ক্রেডিট কার্ড মূলত বাকিতে কেনাকাটা করা এবং প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ ধার নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠনগুলো সাধারণত একজন ব্যক্তির আর্থিক সচ্ছলতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে এ কার্ড সরবরাহ করে থাকে। এ কারণে একেকজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট লিমিট হয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন অংকের। কার্ডহোল্ডার তাকে দেওয়া লিমিট অনুযায়ী বাকিতে নির্ধারিত অংকের কেনাকাটা করতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সে টাকা ব্যাংককে পরিশোধ করার সুযোগ থাকে। এই মেয়াদ সাধারণত ১৫ দিন থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের সুযোগ -সুবিধা প্রায় কাছাকাছি হলেও এ দু’টির মাঝে মৌলিক পার্থক্য হলো: প্রথমটি দ্বারা আগে খরচ করে পরে টাকা পরিশোধ করতে হয়। পক্ষাণ্তরে ডেবিট কার্ডের সুবিধা তখনি পাওয়া যাবে যখন কার্ডধারীর একাউন্টে আগে থেকেই পর্যাপ্ত  পরিমাণের টাকা জমা থাকবে।

শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের সুবাধার্থে নিম্নে ক্রেডিট কার্ডের কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হলো:

ক্রেডিট লিমিট: এই কার্ড হোল্ডারের নামে ইস্যুকারী ব্যাংক একটি একাউন্ট খুলে থাকে; যাকে বলা হয় কার্ড একাউন্ট। এই একাউন্টে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যেমন পঞ্চাশ হাজার বা এক লাখ ইত্যাদি। কার্ডধারী ব্যক্তি এই কার্ড দেখিয়ে ওই পরিমাণ টাকার পণ্য ক্রয় করতে পারে এবং ইচ্ছা করলে ওই নির্ধারিত একাউন্টের ৫০% টাকা নগদও উত্তোলন করতে পারে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত করা ওই পরিমাণকে বলে ‘ক্রেডিট লিমিট’।
 
পণ্য ও সেবা ক্রয়: ক্রেডিট কার্ড দ্বারা শুধু ওই সকল দোকান বা মার্কেট থেকেই কেনাকাটা করা যায় যাদের সাথে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের চুক্তি থাকে। উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ বিপণী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে এই কার্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও আমাদের দেশে এখনো তা ব্যবহারের পরিধি উন্নত কিছু দোকান-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও এয়ারলাইন্সের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। তবে ক্রমন্বয়ে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক, এর ব্যবহারকারী ও ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দোকানি থেকে ব্যাংকের ফি গ্রহণ: কার্ডহোল্ডার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা খরিদের পর ইস্যুকারী ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারকৃত অংকের টাকা দুই-তিন দিনের মধ্যেই পরিশোধ করে থাকে। তবে এ সকর প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যুকারী ব্যাংক নির্ধারিত হারে ফি নিয়ে থাকে; যা সাধারণত ব্যবহারকৃত টাকার ১ থেকে ৩ শতাংশ হয়ে থাকে।

দোকানি কর্তৃক কার্ডহোল্ডার থেকে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ: সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য কার্ড হোল্ডারকে অতিরিক্ত অর্থপ্রদান করতে হয় না; বরং সাধারণ বাজার মূল্যেই সে কেনা-কাটা করতে পারে। কারণ, কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকে দোকনি কর্তৃক কমিশন প্রদান করা লাগলেও যে দোকানে এ সুবিধা থাকে সেখানে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং গড় হিসেবে এটি লাভজনক হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো ছোট দোকানদার অথবা খুবই অল্প লাভ করে থাকে (যেমন ১-৩%) এমন প্রতিষ্ঠান কার্ডে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩% চার্জ কারে থাকে। তাদের দাবি হচ্ছে, ব্যাংক তাদের থেকে যে ৩% কমিশন নিয়ে থাকে সেটাই তারা গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত নিচ্ছে।

বিল পরিশোধ: মাসের একটি নির্ধারিত তারিখে ব্যাংক তার কার্ড মেম্বার বরাবর বিল প্রেরণ কারে থাকে। বিল তৈরির আগ পর্যন্ত যত টাকার কেনাকাটা করা হয়েছে বা যত টাকা খরচ করা হয়েছে তার পুরো হিসাব এতে উল্লেখ থাকে। প্রতিবেদন আকারে তৈরি এই বিলে আরো উল্লেখ থাকে কত তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া গত মাসের বিল-তারিখের পরে কোনো টাকা পরিশোধ করে থাকলে তার বিবরণসহ আরো প্রয়োজনীয় তথ্য সেখানে উল্লেখ থাকে। 

চার্জ: ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী সকর গ্রাহককে মূলত ১টি চার্জেই পরিশোধ করতে হয়। তা হলো বার্ষিক ফি। তবে কোনো কোনো সময় এ ফি’র ক্রেত্রেও ছাড়া দেওয়া হয়। আর বার্ষিক ফি এর সাথে আমাদের দেশে ১৫% ভ্যাটও যোগ হয়। 
এছাড়া কার্ড ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে আরো কিছু চার্জও ব্যাংক কর্তৃক কার্ড মেম্বার থেকে নেয়া হয়ে থাকে। যেমন, নির্ধারিত তারিখে [মিনিমাম ডিও প্রদানের তারিখ] বিল না দিলে নির্ধারিত অংকের জরিমানা। 

ফাইনান্সিয়াল চার্জ: প্রতি মাসের ক্রেডিটকার্ড বিল যদি নির্ধারিত দিনের মধ্যে পুরো জমা করে দেওয়া হয় তবে এ জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ব্যাংকে প্রদান করতে হয় না। কিন্তু যদি আংশিক বিল প্রদান করা হয় [ব্যাংক থেকে এ ধরনের সুযোগ গ্রাহকক দেওয়া হয়ে থাকে] তবে নির্ধারিত দিনের পর যে টাকা বকেয়া থাকবে তার উপর ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে ২/৩% ফাইনান্সিয়াল চার্জ এর নামে কার্ডহোল্ডার থেকে টাকা নিয়ে থাকে।

ক্যাশ এ্যাডভান্স: কার্ড ব্যবহারকারী তার ক্রেডিট লিমিটের ৫০% টাকা ব্যাংকের যে কোনো শাখা অথবা এটিএম বুথ থেকে নগদে উত্তোলন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ওই টাকা পরিশোধের তারিখের আগ পর্যন্ত সময়ের জন্য সুদ আদায় করতে হয়। 

ক্রেডিট কার্ডের শরয়ী মূল্যায়ন।

মাসআলার দিক থেকে ক্রেডিট কার্ডের যে সকল বিষয় আলোচনায় আসে সেগুলো হল: ক্রেডিট লিমিট এবং তার উপর সুদ প্রদানের চুক্তি, দোকানি থেকে ব্যাংকের কমিশন গ্রহণ, দোকানি কর্তৃক [ক্ষেত্র বিশেষে] কার্ডহোল্ডার থেকে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ, কার্ড ইস্যু চার্জ, ফাইনান্সিয়াল চার্জ, ক্যাশ এ্যাডভান্স ও ক্যাশব্যাক ইত্যাদি। এসব বিষয় থেকে কার্ড ইস্যু চার্জ, ক্যাশব্যাক, দোকানি কর্তৃক কার্ডহোল্ডার থেকে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহন এ বিষয়গুলোর শরয়ী মূল্যায়ন ডেবিট কার্ডের আলোচনায় গত হয়েছে। যার সারসংক্ষেপ হলো, শরয়ীভাবে এসব বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। বাকি বিষয়গুলোর শরীয় মূল্যায়ন নিম্নে প্রদত্ত হলো:

সুদি চুক্তি: এই কার্ড বাহকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকে কোনো একাউন্ট বিদ্যমান থাকে না, বরং তার চুক্তিটি হয়েই থাকে সুদভিত্তিক। এ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠান যদিও তাকে একটি মেয়াদের সুযোগ প্রদান করে যে, উক্ত মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করলে সুদ প্রদান করতে হবে না। কিন্তু চুক্তিটি মৌলিকভাবে সুদভিক্তিক হয়ে থাকে। আর নির্দিষ্ট মেয়াদ হলো, শুধু মাত্র আদায়ের অঙ্গীকার। এছাড়া এতে (Rescheduling) মেয়াদ বৃদ্ধিরও সুযোগ থাকে। যার ফলে মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে সুদও বৃদ্ধি পায়। তাই এ ধরনের কার্ডের হুকুম বা বিধান হলো তা ব্যবহার করা নাজায়েয।

ফাইনান্সিয়াল চার্জ: ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে যে, প্রতি মাসে মোট বিলের ৫% পরিশোধ করতে হবে। বাকি বিলের উপর ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে ২/৩% ফাইনান্সিয়াল চার্জ এর নামে কার্ডহোল্ডার থেকে নিয়ে থাকে। স্পষ্ট কথা, এটি সরাসরি সুদি লেনদেন এসং সম্পূর্ণ হারাম।

ক্যাশ এ্যাডভান্স: ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা উত্তোলন করলে তার উপর সুদ দিতে হয়। তাই এটিও নাজায়েয ও হারাম। 

একান্ত প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান।

ক্রেডিট কার্ডে সুদি চুক্তি থাকাতে তা গোড়াই নিষিদ্ধ। তবে আন্তর্জাতিক কোনো লেনদেনে বা বিদেশি সফর ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি ক্রেডিট কার্ড অপরিহার্য হয়ে পড়ে তাহলে নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে তা ব্যবহার করলে আশা করা যায় আল্লাহর নিকট মাযুর হিসেবে গণ্য হবে। 
১. বৈধ কোনো প্রয়োজন থাকা যা ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। 
২. ডেবিট কার্ড , প্রিপেড কার্ড ইত্যাদির ব্যবস্থা না থাকা বা তা দিয়ে প্রয়োজন পূরণ না হওয়। 
৩. ক্রেডিট কার্ডে ডাইরেক্ট ডেবিটের ব্যবস্থা করতে না পারা। 
৪. ক্রেডিট কার্ডের সকল বিল ‘মিনিমাম ডিও’ তারিখের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করে দিতে হবে। কোনো টাকা বাকি রাখা যাবে না। যাতে সুদ না আসে। 
৫. কার্ডের মাধ্যমে কোনো ‘ক্যাশ অ্যাডভান্স’ নেয়া যাবে না। কারণ নগদ টাকা উত্তোলনের অর্থই হলো ব্যাংক কর্তৃক সুদ আরোপিত হওয়া। 
৬. ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কখনো কোনভাবেই এনম কারবারে অংশগ্রহণ করা যাবে না, যা সুদের অন্তর্ভুক্ত।  যদি কার্ড ইস্যুকারী কর্তৃক নতুন  কোনো সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষিত হয়- যা মাসআলার দিক থেকে সন্দেহজনক, তবে অবশ্যই সে ব্যাপারে বিজ্ঞ কোনো মুফতি থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। 
উপরোক্ত শর্তগুলো পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জেনারেল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নেয়া ও তা  ব্যবহার করলে আশা করা যায় শরয়ী দৃষ্টিতে অসুবিধা হবে না। 
উল্লেখ থাকে যে, এখানে কেবল জেনারেল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ফিকহুল বুয়ু ১/৪৫২-৪৬৪, ফাতওয়া উসমানী:৩/৩৫৩-৩৫৬, আলমাআয়িরুশ শরইয়্যাহ. চতুর্থ সম্মেলন-১৪২১ হি.


লিখেছেন:
মুফতি আবু সাহবান মুহাম্মদ আব্দুল মালেক
জামি‘আ মুহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া
বিটিসিএল কলোনি, বনানী ঢাকা-১২১৩ 
 



Post a Comment

0 Comments